প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
অপহরণ করে হত্যার পর লাশ গুমের মামলা, দেড় মাস পর ঢাকায় জীবিত মিলল গৃহবধূ
||
অপহরণ করে হত্যার পর লাশ গুমের মামলা, দেড় মাস পর ঢাকায় জীবিত মিলল গৃহবধূখুলনার কয়রা থেকে গৃহবধূ আয়েশা খাতুনকে (৩৬) অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে—এমন অভিযোগে মামলা করেছিলেন তাঁর মা। তবে মামলার প্রায় দেড় মাস পর ঢাকায় জীবিত অবস্থায় আয়েশাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।আজ শুক্রবার খুলনার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পর আয়েশাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুলাই কয়রা থানার নাকশা গ্রামের বাসিন্দা আয়েশা খাতুনকে তাঁর স্বামী ইসলাম সরদারসহ তিনজন অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করেছেন—এমন অভিযোগ করেন আয়েশার মা আমেনা খাতুন। পরে গত ৩ আগস্ট খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা করেন তিনি।মামলার এজাহারে বলা হয়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে আয়েশাকে কয়রা থানার মসজিদকুড় ব্রিজের ওপর থেকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁর পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় আয়েশাকে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।আদালত পরে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। তদন্তে আয়েশার অবস্থান শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার তাঁকে ঢাকায় উদ্ধার করে পিবিআই।শুক্রবার আয়েশাকে খুলনার আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাঁকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন।পিবিআইয়ের তদন্ত ও আয়েশার জবানবন্দি অনুযায়ী, প্রায় ১২ বছর আগে ইসলাম সরদারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। একপর্যায়ে আয়েশা পরিবারকে জানান, তিনি আর স্বামীর সংসার করতে চান না। তবে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে জোর করে স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।এরপর প্রায় দেড় মাস আগে আয়েশা স্বেচ্ছায় ঢাকায় চলে যান এবং সেখানে আত্মগোপনে থাকেন। পিবিআই জানিয়েছে, ওই সময়ে তিনি মোবাইল ফোনও ব্যবহার করতেন না।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, বিষয়টি তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সংসারে মন না বসায় আয়েশা ঢাকায় চলে গিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে জোর করে স্বামীর সংসারে পাঠানোর পরই তিনি সেখান থেকে চলে যান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪