প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশে ঢুকে কৃষকদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, অস্ত্র-ওয়াকিটকি ফেলে পালাল বিএসএফ
||
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বাংলাদেশে ঢুকে কৃষকদের সঙ্গে বিএসএফ সদস্যদের ধস্তাধস্তির অভিযোগ উঠেছে। এ সময় দুই বিএসএফ সদস্য দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে ভারতের দিকে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরে বিজিবির কাছে জমা দেওয়া অস্ত্র ও ওয়াকিটকি পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের প্রধান পিলার ৯০৭-এর ২ নম্বর উপপিলারের কাছে বাংলাদেশের অংশে কয়েকজন কৃষক জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় ভারতের ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাগলীমারী ক্যাম্পের টহল দলের তিন সদস্য সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।একপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে বিএসএফ সদস্যদের তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরে তা মারধর ও ধস্তাধস্তিতে গড়ায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ সময় বাংলাদেশি কৃষকেরা একজন বিএসএফ সদস্যের অস্ত্র ধরে ফেলেন। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বিএসএফ সদস্যরা দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যান।পরে স্থানীয়রা অস্ত্র ও ওয়াকিটকি সেটগুলো বিজিবির বনচৌকি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার শরিফুল ইসলামের কাছে জমা দেন।ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম। ভারতের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট শ্রী মনোজ কুমার।বৈঠকে বিজিবি বিএসএফের কাছে দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি সেট হস্তান্তর করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষকদের কৃষিকাজে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করা, পুশইন ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। বিএসএফও সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করার আহ্বান জানায়।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক লিটন মিয়া (৩৫) বলেন, তাঁর বাবা ও ভাই সীমান্তের জমিতে কাজ করছিলেন। দুপুরে তাঁদের খাবার দিতে তাঁর মা সেখানে যান। পরে মাকে ডাকতে যাওয়ার সময় তিনি কয়েকজন বিএসএফ সদস্যকে বাংলাদেশের জমির ওপর দিয়ে আসতে দেখেন।লিটনের ভাষ্য, বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশে প্রবেশের কারণ জানতে চাইলে তাঁকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেন। এ সময় তিনি একজনের রাইফেলের মাথা ধরে ফেলেন। পরে তাঁর বাবা ও ভাই এসে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন। এরপর বিএসএফ সদস্যরা অস্ত্র ও ওয়াকিটকি ফেলে চলে যান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪