প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬
পাকা আউশে বাবুই-চড়ুই পাখির হানা, ফসল বাঁচাতে দিনরাত পাহারায় কৃষক
||
পাকা আউশে বাবুই-চড়ুই পাখির হানা, ফসল বাঁচাতে দিনরাত পাহারায় কৃষকনরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীর রায়পুরায় মাঠে মাঠে পেকে গেছে আউশ ধান। তবে বাম্পার ফলনের স্বপ্নের মাঝেই নতুন দুশ্চিন্তা হয়ে দেখা দিয়েছে বাবুই ও চড়ুই পাখির ঝাঁক। পাকা ধান খেতে নেমে মুহূর্তেই শিষের ধান খেয়ে ও নষ্ট করে দিচ্ছে পাখিরা। ফলে ফসল রক্ষায় দিনরাত খেতে পাহারা দিচ্ছেন কৃষকরা।শুক্রবার (৭ আগস্ট) উপজেলার মুছাপুর ও পূর্ব হরিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, টিন-বাসন বাজানো, ঢাক-ঢোল পেটানো, ফটকা ফাটানোসহ নানা কৌশলে পাখি তাড়ানোর চেষ্টা করছেন কৃষকরা। তারপরও ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।মুছাপুর গ্রামের কৃষক আবদুস রহমান বলেন, দেড় একর জমিতে আউশের আবাদ করেছেন। রোগবালাই কম থাকায় ফলন ভালো হলেও ধান পাকার পর থেকেই বাবুই ও চড়ুই পাখির আক্রমণে বিপাকে পড়েছেন। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খেতে পাহারা দিলেও পাখির হাত থেকে ধান রক্ষা করা যাচ্ছে না।কৃষকদের ভাষ্য, অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে এ বছর ভালো ফলনের আশা ছিল। কিন্তু পাখির ঝাঁক শুধু ধান খেয়েই ক্ষান্ত হচ্ছে না, অনেক ক্ষেত্রে ধানগাছও ভেঙে ফেলছে। ফলে লোকসানের আশঙ্কায় অনেকে সময়ের আগেই কাঁচা ধান কেটে ফেলছেন।পূর্ব হরিপুর গ্রামের কিষানি সুহেরা বলেন, সংসারের কাজ ফেলে সারাদিন মাঠে থাকতে হচ্ছে। শুরুতে ভালো লাভের আশা করলেও এখন খরচ ওঠা নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়েছে।কৃষক হারুনুর রশিদ জানান, পাখির আক্রমণে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে আগাম ধান কেটে ফেলছেন।একই অভিযোগ করেছেন কৃষক মরম আলী, আব্দুর রহিম, নান্নু মিয়া, শফিকুল ইসলাম ও সাইদা মিয়াসহ আরও অনেকে।রায়পুরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭৩২ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে। কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে ১ হাজার ১৫০ জনকে ধানের বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শও দিচ্ছে।তিনি বলেন, বর্তমানে মাঠে পাখিদের প্রাকৃতিক খাবার কম থাকায় তারা ধানখেতে বেশি হানা দিচ্ছে। এতে কিছু ক্ষতি হলেও কৃষকদের করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪