প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
কৃষকের পণ্য ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে দাম বাড়ছে দ্বিগুণ, দায় মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজি: সিপিডি
||
কৃষকের পণ্য ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে দাম বাড়ছে দ্বিগুণ, দায় মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজি: সিপিডিঢাকা:
কৃষকের উৎপাদিত পণ্য ভোক্তার টেবিলে পৌঁছানোর পথে একাধিক স্তরে অতিরিক্ত মুনাফা, অদক্ষ সরবরাহব্যবস্থা এবং পরিবহনে চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, কিছু ক্ষেত্রে কৃষক পর্যায়ের তুলনায় ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি হয়ে যাচ্ছে।বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত ‘নিত্যপণ্যের বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থা’ বিষয়ক এক সংলাপে সিপিডি তাদের গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থনীতিবিদ এবং ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।সিপিডির গবেষণায় দেশের ৮১০টি বাজারে ১০টি নিত্যপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, পণ্যের ধরনভেদে মধ্যস্বত্বভোগী, মিলার, আড়তদার, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিভিন্ন স্তরে উল্লেখযোগ্য হারে দাম বাড়ানো হয়।গবেষণা অনুযায়ী, কৃষক বা উৎপাদক পর্যায় থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে মসুর ডালের দাম বেড়েছে ৭৮ শতাংশ, পেঁয়াজের ৮৭ শতাংশ, আলুর ৫০ শতাংশ, কাঁচা মরিচের ১১৬ শতাংশ, বেগুনের ৭২ শতাংশ, ডিমের ২৫ শতাংশ, গরুর মাংসের ১৩ শতাংশ, মাছের ১০ শতাংশ এবং ব্রয়লার মুরগির ২২ শতাংশ।চালের ক্ষেত্রে উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পাঁচটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। এ সময় চালের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি মূল্য বৃদ্ধি ঘটে মিলার পর্যায়ে। অন্যদিকে ডাল ও কাঁচা মরিচের ক্ষেত্রে শহরের আড়তদাররা সবচেয়ে বেশি দাম বাড়ান। বেগুন ও আলুতে সর্বোচ্চ মুনাফা করেন খুচরা বিক্রেতারা, আর গরুর মাংসের দামে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি ঘটে ব্যাপারিদের পর্যায়ে।সংলাপে সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ফারুক আল কবীর গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করেন। পরে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন ও অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, বাজারে স্বচ্ছতা ও কার্যকর নজরদারির অভাবে সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আবার ভোক্তাদেরও বেশি দাম গুনতে হচ্ছে।প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের কৃষি উৎপাদন পরিকল্পনায় তথ্যের ঘাটতি থাকায় কখনো ঘাটতি, আবার কখনো অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে বাজারে ভারসাম্য নষ্ট হয়। তিনি জানান, বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ। এই ব্যয় কমানো গেলে খাদ্যপণ্যের দামও কমানো সম্ভব।বাণিজ্যমন্ত্রী আরও স্বীকার করেন, কৃষিপণ্য পরিবহনের পথে চাঁদাবাজি একটি বাস্তব সমস্যা, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায়। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি জানান।
সংলাপে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, পরিবহনপথে চাঁদাবাজির কারণে অনেক ক্ষেত্রে কৃষিপণ্যের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়, যার পুরো চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাকেই বহন করতে হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪