প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
ইরানের নজর এড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের মোবাইল ব্যবহারে কড়াকড়ির ভাবনা
||
ইরানের নজর এড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের মোবাইল ব্যবহারে কড়াকড়ির ভাবনামধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাদের পোস্ট করা ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে ইরান হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও লক্ষ্যভেদের তথ্য সংগ্রহ করছে—এমন আশঙ্কার পরই এ পদক্ষেপ বিবেচনা করছে পেন্টাগন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।সূত্রগুলোর মতে, পরিস্থিতি এতটাই স্পর্শকাতর যে, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু ঘাঁটিতে মোতায়েন সেনাদের মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সেনাদের সতর্ক করে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সাধারণ ভিডিও বা ছবিও ইরানকে হামলার কার্যকারিতা মূল্যায়নে সহায়তা করছে। যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের চেয়ে এসব পোস্ট থেকেই তারা দ্রুত বুঝতে পারছে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা কতটা সফল হয়েছে।জর্দানে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করা হতে পারে। তবে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স বিষয়টিকে অপারেশনাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।ঘটনার সূত্রপাত চলতি মাসের ১৭ জুলাই। জর্দানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় এক মার্কিন সেনা স্মার্ট চশমার ক্যামেরায় সহকর্মীদের বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ার দৃশ্য ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা হয়।এর পর ২৮ জুলাই পাঠানো এক চিঠিতে অ্যাডমিরাল কুপার উল্লেখ করেন, মার্কিন বাহিনীর ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের কারণে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে হামলার সাফল্য নিশ্চিত করতে পারে না। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও, ছবি ও সংবাদ তাদের জন্য কার্যত বিনামূল্যের ‘ব্যাটেল ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্ট’ বা ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।তার ভাষ্য, এ ধরনের তথ্য ইরানকে আরও নিখুঁতভাবে পরবর্তী হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে, যা মার্কিন সেনাদের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক মানুষের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন-ইরান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬ শতাধিক আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও যুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, দেশটির মাত্র এক-তৃতীয়াংশ নাগরিক এ সংঘাতকে সমর্থন করছেন। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা পেন্টাগনের কাছে সামরিক ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছেন।
অন্যদিকে, পেন্টাগন দীর্ঘদিন ধরেই সেনাদের সতর্ক করে আসছে যে মোবাইল ফোনের ডেটা, লোকেশন তথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম শত্রুপক্ষের গোয়েন্দা তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪