প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তেলের বাজারে অস্থিরতা, ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারে
||
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তেলের বাজারে অস্থিরতা, ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারে
সংঘাত তীব্র হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে শঙ্কা; বাড়ছে গ্যাস, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত মে মাসের পর সর্বোচ্চ।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান জোরদারের পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একদিনেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবের বিকল্প রপ্তানি পথও ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।শুধু তেল নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও ঊর্ধ্বমুখী। যুক্তরাজ্যে গ্যাসের বেঞ্চমার্ক মূল্য প্রতি থার্মে প্রায় ১৫০ পেন্সে পৌঁছেছে, যা জুনের শেষ দিকে ছিল প্রায় ৯৮ পেন্স।বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময় তেলের দাম কিছুটা কমলেও সংঘাত আবার শুরু হওয়ায় বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এ সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের নেতৃত্ব এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত নয়।অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে। তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সাধারণত পেট্রোল, ডিজেল, পরিবহন ব্যয় এবং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও পড়ে।ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে গত আড়াই সপ্তাহে প্রতি লিটার পেট্রোলের গড় দাম প্রায় ৫ পেন্স বেড়ে ১ দশমিক ৫৬ পাউন্ডে পৌঁছেছে। একই সময়ে ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ১ দশমিক ৭২ পাউন্ড প্রতি লিটার। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় মূল্য আবার ৪ ডলার অতিক্রম করেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ কংগ্রেসে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ালেও মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করতে ফেড প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুদের হার কমানোর পক্ষে থাকলেও, সর্বশেষ বৈঠকে ফেড সুদের হার ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রেখেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪