প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
চার শিক্ষক, শিক্ষার্থী মাত্র ৭: পিরোজপুরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম শিক্ষার্থী সংকট
||
চার শিক্ষক, শিক্ষার্থী মাত্র ৭: পিরোজপুরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম শিক্ষার্থী সংকটপিরোজপুর প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর জব্দকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম শিক্ষার্থী সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থী মাত্র সাতজন। অথচ তাদের পাঠদানে কর্মরত রয়েছেন চারজন শিক্ষক।বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে বর্তমানে কোনো শিক্ষার্থী নেই। তৃতীয় শ্রেণিতে দুইজন, চতুর্থ শ্রেণিতে একজন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে চারজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষক দীপঙ্কর শিকদার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যালয়টির ক্যাচমেন্ট এলাকা ছোট হওয়ায় শিক্ষার্থী সংখ্যা আগে থেকেই সীমিত ছিল। এর পাশাপাশি আশপাশে আরও চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় অধিকাংশ অভিভাবক সন্তানদের সেখানে ভর্তি করিয়েছেন। অনেকের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় অভিভাবকদের আস্থাও কমেছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানায়, সহপাঠী কম থাকায় খেলাধুলা বা দলগত কার্যক্রমে আনন্দ পাওয়া যায় না। ফলে অনেক সময় স্কুলে আসার আগ্রহও কমে যায়।এক অভিভাবক বলেন, আগে বিদ্যালয়টিতে ভালো পড়াশোনা হতো এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যাও অনেক বেশি ছিল। এখন শিক্ষক থাকলেও শিক্ষার্থী নেই, যা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। শিক্ষার মান উন্নত হলে তারা আবার সন্তানদের এ বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে আগ্রহী হবেন।ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর শিকদার বলেন, ক্যাচমেন্ট এলাকা ছোট হওয়া এবং আশপাশে একাধিক বিদ্যালয় থাকায় শিক্ষার্থী কমেছে। তবে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. অহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংকটের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। শিক্ষার পরিবেশ ও মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মাত্র সাতজন শিক্ষার্থীর জন্য চারজন শিক্ষক থাকা কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়। বিষয়টি তদন্ত করে বিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ ও শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪