প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
স্কুল ফিডিংয়ে পচা ডিমের অভিযোগ, মেহেরপুরে ক্ষোভে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা
||
স্কুল ফিডিংয়ে পচা ডিমের অভিযোগ, মেহেরপুরে ক্ষোভে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরামেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় পচা ডিম ও নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুশীলন নামে একটি এনজিওর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে গাংনী পৌরসভার বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছুদিন আগেও বিদ্যালয়টিতে ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি সরবরাহ করা হয়েছিল। নিম্নমানের খাদ্য দেওয়ার বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮ হাজার ৩৪৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় পাউরুটি, কলা, ডিম, দুধ ও বিস্কুট সরবরাহ করা হয়।চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী অনিক হাসান জানায়, বিদ্যালয়ে দেওয়া ডিম ও পাউরুটির মান খুবই খারাপ। একই শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী সাবিত হোসেন বলে, ডিমের খোসা ছাড়ানোর সময় ভেতর থেকে পানি বের হতে দেখে বুঝতে পারে সেটি পচা, পরে তা ফেলে দেয়। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আমির হামজার অভিযোগ, প্রায়ই দুর্গন্ধযুক্ত ডিম, পচা পাউরুটি ও নিম্নমানের দুধ দেওয়া হয়।অভিভাবকদের অভিযোগ, শিশুদের পুষ্টির জন্য সরকারের বরাদ্দ থাকলেও তদারকির অভাবে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজারুল ইসলাম বলেন, নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ করলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয় বলেও দাবি করেন তিনি।এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে তার কিছু করার নেই।অভিযোগের বিষয়ে সুশীলন এনজিওর গাংনী প্রোগ্রাম ম্যানেজার এস এম জাভেদ আলী বলেন, কোনো বিদ্যালয়ে পচা ডিম বা নিম্নমানের পাউরুটি সরবরাহ হয়ে থাকলে অভিযোগের ভিত্তিতে তা পরিবর্তন করে দেওয়া হবে।মো. আব্দুস সামাদ বলেন, পচা বা নষ্ট ডিম খেলে খাদ্য বিষক্রিয়াসহ বমি, ডায়রিয়া, তীব্র পেটব্যথা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যজটিলতা দেখা দিতে পারে।
মেহেরপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মিত্র বলেন, পচা ডিম বা নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪