প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
রাজস্থানে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৭, আহত অন্তত ২২
||
রাজস্থানে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৭, আহত অন্তত ২২ভারতের রাজস্থান রাজ্যের দৌসা জেলার কাছে দিল্লি-মুম্বাই মহাসড়কে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয়নবাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২২ জন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় আড়াইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বাসটি ঋষিকেশ থেকে ইন্দোর যাচ্ছিল। পথে দৌসা জেলার কাছে উচ্চগতিতে চলার সময় বাসটি একটি পণ্যবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের পরপরই দুটি যানবাহনে আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে তা ভয়াবহ রূপ নেয়।দুর্ঘটনার পর বাসে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। কেউ জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন, তবে আগুনের তীব্রতায় কয়েকজন বাসের ভেতরেই আটকা পড়ে প্রাণ হারান। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে দমকল ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠায়।কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান। বাকি দুজনের মৃত্যু হয়েছে মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে। দুর্ঘটনার সময় বাসের ওপরের শয্যায় থাকা কয়েকজন যাত্রী নিচে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, নিহতদের অধিকাংশই দুর্ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন।আহতদের দৌসা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নারী ও শিশু বেশি আহত হওয়ায় তাদের জন্য বিশেষ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বাসচালক তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন অথবা বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল। এ দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি বাসটির কারিগরি অবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল ও দমকল সদস্যদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হলে আরও কয়েকজনের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতে পারত। স্থানীয়দের ভাষ্য, আগুন লাগার প্রায় এক ঘণ্টা পর বাসে আটকে থাকা যাত্রীদের বের করা হয়।এ ছাড়া স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, বাসটির মালামাল রাখার অংশে বিপুল পরিমাণ সিগারেটের প্যাকেট ছিল। এসব দাহ্য বস্তু থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।রাজস্থান প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে একের পর এক বড় সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত গতি, চালকদের দীর্ঘ সময় বিরতিহীনভাবে গাড়ি চালানো এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দৌসার এই দুর্ঘটনাও সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪