প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
বাউফলের কালাইয়া বন্দরে বিক্ষোভ মিছিল ঘিরে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ
||
বাউফলের কালাইয়া বন্দরে বিক্ষোভ মিছিল ঘিরে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগপটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালাইয়া বন্দরে Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি) ও এর সহযোগী সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৯ জুন) রাতে উপজেলার কালাইয়া বন্দর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।এ সময় কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদারকে মারধর এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এস এম ফয়সাল আহম্মেদের (মনির হোসেন মোল্লা) বাসভবনে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম ফোরকানকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ Awami League-এর বিরুদ্ধে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কালাইয়া বন্দর প্যাদা রোড এলাকায় পৌঁছালে ওষুধ ব্যবসায়ী রাজীব চন্দ্র শীল ও ব্যবসায়ী মো. জাফর খানের হার্ডওয়্যার দোকানে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই ব্যবসায়ীকে মারধর এবং তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।এর কিছুক্ষণ পর মিছিলটি কাটপট্টি সড়কে অবস্থিত কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদারের অস্থায়ী কার্যালয় ও তার রড-সিমেন্টের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যায়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাকে মারধরের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। একই সময় ব্যবসায়ী ও ইউপি সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম ফোরকানকেও মারধর করা হয়।পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিছিলটি সুন্দরী সিনেমা হল সড়কে গিয়ে কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম ফয়সাল আহম্মেদের বাসভবনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি এলাকায় অবস্থান করছেন না।কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রিয়াজ পঞ্চায়েত, যুবদল নেতা স্বপন এবং ছাত্রদলের নেতা সোহেল, ইব্রাহিম ও রাজনসহ ২৫ থেকে ৩০ জন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে মারধরের পাশাপাশি তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় চার লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলেও তিনি দাবি করেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা রাজন মনসুর বলেন, “গত শনিবার রাতে বিএনপির মিছিলে আওয়ামী লীগের হামলার প্রতিবাদে আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী মিছিল বের করি। মিছিল থেকে প্যানেল চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গিয়ে হামলার বিষয়ে জানতে চাই। এ সময় তিনি আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের মধ্যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হামলা বা লুটপাটের সঙ্গে আমরা কেউ জড়িত নই।”
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪