প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজধানীতে ৭ কিলোমিটারের সার্বভৌমত্ব র্যালি, জনসমুদ্রে রাজপথ
||
তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজধানীতে ৭ কিলোমিটারের সার্বভৌমত্ব র্যালি, জনসমুদ্রে রাজপথঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য ‘সার্বভৌমত্ব র্যালি’ করেছে বিএনপি। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আয়োজিত এ র্যালিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে র্যালিটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হয়।বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। এর আগে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সেখানে জড়ো হতে থাকেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে উপস্থিতি। একপর্যায়ে কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।র্যালিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড। বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজধানীর সড়কগুলো।সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়া হবে।তিনি বলেন, দেশে আবারও ষড়যন্ত্র চলছে। একটি পক্ষ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করতে এবং অতীতের মতো বিতর্কিত নির্বাচনী ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চায়। তবে দেশের জনগণকে আর দমিয়ে রাখা যাবে না।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছে, ১৯৭৫ সালে সিপাহি-জনতার বিপ্লব ঘটিয়েছে এবং ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। তাই ষড়যন্ত্র করে এ দেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়।এ সময় তিনি স্লোগান ধরেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’ তাঁর সঙ্গে উপস্থিত নেতাকর্মীরাও স্লোগানে কণ্ঠ মেলান।সমাবেশ শেষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে র্যালির নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। সাদা হাফহাতা শার্ট ও ধূসর রঙের প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমানকে পুরো পথ হাসিমুখে হাত নেড়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের শুভেচ্ছার জবাব দিতে দেখা যায়।র্যালিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।নয়াপল্টন থেকে কাকরাইল, রমনা পার্ক সড়ক, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত র্যালির বিস্তৃতি ছিল। সড়কের দুই পাশে এবং আশপাশের উঁচু ভবনগুলোতে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় পুরো পথজুড়ে স্লোগান ও উচ্ছ্বাসে মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।র্যালি ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। পাশাপাশি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকেরাও দায়িত্ব পালন করেন।বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নির্ধারিত পথ অতিক্রম করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সমাপনী বক্তব্যে তিনি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে একটি মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানুষের অধিকার, ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। জনগণ অতীতেও তাদের পরাজিত করেছে, ভবিষ্যতেও করবে।তিনি বলেন, ‘আসুন, আজ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, যে কোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করব।’বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যত দিন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন এই বিপ্লবের র্যালি চলমান থাকবে।’
বিএনপির নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে র্যালিটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪