প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
পঞ্চম দিনেও সাজেকে অবরোধ, খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন; বাতিল কঠিন চীবর দানোৎসব
||
পঞ্চম দিনেও সাজেকে অবরোধ, খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন; বাতিল কঠিন চীবর দানোৎসবরাঙামাটির বাঘাইছড়ির পর্যটনকেন্দ্র সাজেক উপত্যকায় টানা অবরোধে জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। অনির্দিষ্টকালের অবরোধ পঞ্চম দিনেও কঠোরভাবে পালিত হওয়ায় বন্ধ রয়েছে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে সাধারণ ও বাণিজ্যিক যান চলাচল। দীর্ঘদিনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও চিকিৎসাসংকট। স্থবির হয়ে পড়েছে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাজেক সড়কে চলমান অবরোধের চতুর্থ পর্যায়ের কর্মসূচি পঞ্চম দিনেও অব্যাহত রয়েছে। এদিন সকাল থেকে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন আন্দোলনকারীরা।সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে পাঁচ দফা দাবিতে এ অবরোধ কর্মসূচি চলছে।অবরোধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এ বছর বাঘাইহাট এলাকার ঐতিহ্যবাহী বনানী বন বিহারের কঠিন চীবর দানোৎসব বাতিল করা হয়েছে। শুক্র ও শনিবার এ ধর্মীয় উৎসব আয়োজনের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়।বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা জানান, সাজেকে চলমান থমথমে পরিস্থিতি ও অবরোধের কারণে ধর্মীয় উৎসব আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে উৎসব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক সড়কে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে ১ নভেম্বর মাত্র একদিনের জন্য অবরোধ কিছুটা শিথিল করা হলেও ২ নভেম্বর থেকে আবারও চতুর্থ পর্যায়ে অবরোধ শুরু হয়। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও গণমাধ্যমকর্মীদের গাড়ি চলাচলে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে।আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি প্রশাসন মেনে নিলেও সাজেক থেকে সন্তু লারমা গ্রুপের (জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের অপসারণের দাবি নিয়ে এখনো সমঝোতা হয়নি।এদিকে সাজেকে সাম্প্রতিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও সহায়তায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হয়। এতে পাহাড়ি জনপদের শান্তি প্রতিষ্ঠা ও স্বাভাবিক জনজীবন ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের ভ্রমণে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাও বহাল রয়েছে। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।অবরোধের কারণে সাজেক এখন পর্যটকশূন্য। রিসোর্ট ও কটেজগুলো খালি পড়ে রয়েছে। এতে প্রতিদিন কোটি টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা। পাশাপাশি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিক ও চালকেরা।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সংঘাত বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪