প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরকে কাজে লাগানোর ঘোষণা আইজেনকটের
||
নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে, সরকার গঠনে বিরোধীদের তৎপরতাইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর আসনসংখ্যাকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে চান ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট। শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হলেই পরিবর্তনের পক্ষে দেওয়া জনগণের রায় বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে।ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। নির্বাচনে নেতানিয়াহুবিরোধী জায়নবাদী দলগুলো পেয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। বাকি ১৯টি আসন পেয়েছে দুটি আরব দল। কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।বিবৃতিতে আইজেনকট বলেন, পাঁচ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে ইসরায়েলের জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। ৭ অক্টোবরের ঘটনার জন্য দায়ী সরকারের বিরুদ্ধে এবং সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তি এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন তাঁরা।তিনি জানান, পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হওয়ার পরপরই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন করা হবে। এগুলো হলো ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে ও সময়কার নিরাপত্তা ব্যর্থতা তদন্তে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন, সবার জন্য বাধ্যতামূলক জাতীয় সেবা চালু এবং বিদায়ী সরকারের পাস করা বিতর্কিত বিচার বিভাগ সংস্কার আইন বাতিল।এদিকে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেতানিয়াহু ও তাঁর মিত্ররা। এর জবাবে আইজেনকট বলেন, সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আছে কি না, সেই নিশ্চয়তা দেয় পার্লামেন্ট। সরকার নয়, পার্লামেন্টই এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক ক্ষেত্র। তাই কেউ সন্দেহ তৈরির চেষ্টা করলেও নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট।ক্ষমতায় টিকে থাকতে নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে পারেন—এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে সতর্ক করে আইজেনকট বলেন, নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি ও তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি দেখা দিলে, যার মোকাবিলায় অপেক্ষা করা সম্ভব নয়, কেবল তখনই তিনি সামরিক অভিযানে সমর্থন দেবেন।নতুন সরকার গঠনে চারটি শর্ত দিয়েছেন আইজেনকট। শর্তগুলো হলো—ইসরায়েলকে ইহুদি, গণতান্ত্রিক, উদার ও সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া; দেশটির স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার; সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালু এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি গাজায় সংগঠনটির সামরিক ও শাসনক্ষমতা ধ্বংস করা। এসব শর্ত মেনে নিলে যেকোনো নির্বাচিত প্রতিনিধির সঙ্গে কাজ করতে তাঁর আপত্তি নেই বলে জানান আইজেনকট।এদিকে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত করতে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ বিরোধী শিবিরের সদস্যদের দলে টানার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে ইয়াশার পার্টি। দলটির দাবি, লিকুদের কয়েকজন মন্ত্রী ও আইনপ্রণেতা তাদের সদস্যদের ফোন করেছেন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষামন্ত্রী ইয়োভ কিশ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপমন্ত্রী আলমোগ কোহেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কোহেন একে ভুয়া খবর বলে দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ইয়াশার পার্টির কোনো সদস্যের সঙ্গে তিনি কথা বলেননি।শনিবার নতুন সরকার গঠন নিয়ে আইজেনকটের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আরেক বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ। গত সপ্তাহের নির্বাচনের পর এটিই তাঁদের প্রথম প্রকাশ্যে স্বীকার করা বৈঠক।
এ ছাড়া আগামী ১০ নভেম্বর নতুন পার্লামেন্টের শপথ গ্রহণের সময় বর্তমান স্পিকার আমির ওহানাকে পদ থেকে সরানোর পরিকল্পনা করছেন বিরোধীরা। তবে স্পিকার পদে বসার জন্য কয়েকটি অনুরোধ পেলেও এ দায়িত্ব নেওয়ার কোনো ইচ্ছা বা পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বিরোধী নেতা আভিগদোর লিবারম্যান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪