প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের দাবি, তেল আবিবে বিক্ষোভ
||
নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের দাবি, তেল আবিবে বিক্ষোভইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের দাবিতে তেল আবিবে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বিরোধী দলগুলোর প্রতি তাদের আহ্বান, সরকার গঠনের স্বার্থে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা বিবেচনা করতে হবে।বিক্ষোভকারীদের মতে, ইসরায়েলের রাজনীতিতে প্রকৃত পরিবর্তন আনার এটিই হয়তো শেষ সুযোগ। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহু নানা রাজনৈতিক কৌশলে ক্ষমতা ধরে রেখেছেন।বার্তা সংস্থা এএফপিকে বিক্ষোভকারীরা বলেন, জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে বিরোধী দলগুলোর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষ করে প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের প্রতি তাদের আহ্বান, সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার সংবাদদাতা নূর ওদেহ শনিবার রামাল্লা থেকে জানান, পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেওয়া মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে আইজেনকোটসহ ইহুদি-ইসরায়েলি দলগুলোর নেতাদের জনগণের কণ্ঠস্বর শুনতে হবে।তবে বিক্ষোভের বিপরীতে নেতানিয়াহুর সমর্থকেরাও পাল্টা অবস্থান নেন। তাঁদের স্লোগান ছিল, ‘তথাকথিত সন্ত্রাসীদের’ সঙ্গে জোট করে ইসরায়েলে সরকার গঠন করা যাবে না।মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো জোটই এককভাবে অর্জন করতে পারেনি।নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন তিনটি দল পেয়েছে ১৯টি আসন। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় তাদের ভোট উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আরব দল রা’আম ও তিনটি আরব নেতৃত্বাধীন দলের জোট জয়েন্ট লিস্টের পক্ষে ভোট দিয়েছেন প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। আগের নির্বাচনের তুলনায় এই ভোট বেড়েছে ৬৪ শতাংশ।আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে জোট গঠন করতে পারলে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৬৭-তে পৌঁছাতে পারে। এতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব হবে। তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি ইসরায়েলের রাজনীতিতে এখনো ব্যাপক বিতর্কিত।এদিকে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন, ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি দলগুলো নির্বাচনে কারচুপি করেছে এবং এ কাজে কাতারের অর্থায়ন নিয়েছে। তবে কাতার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে অপতথ্য ছড়ানোর প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছে।আল-জাজিরার সংবাদদাতা নূর ওদেহের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের ডানপন্থী মহলে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলিদের ঐতিহাসিক ভোটার উপস্থিতিকে ‘নির্বাচনী সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সঙ্গেও এর তুলনা করা হচ্ছে।নূর ওদেহের মতে, আইজেনকোট সরকার গঠন করতে পারবেন কি না, তা নির্ধারণে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলিদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠায় তাঁদের রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরও এখন আক্রমণের মুখে পড়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা, এএফপি
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪