প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
গাজীপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৩০, ২০ কারখানায় ছুটি
||
গাজীপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৩০, ২০ কারখানায় ছুটিগাজীপুরের কালিয়াকৈরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শ্রমিক ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িসহ অন্তত ১৫টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন ইন্টারস্টপ অ্যাপারেল লিমিটেডের শ্রমিকেরা। পরে আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। এতে মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগের মতো ওভারটাইমের সুযোগও নেই। এর মধ্যে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও তাঁদের বেতন বাড়েনি। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা।ইন্টারস্টপ অ্যাপারেল লিমিটেডের লাইনম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, সারা দিন পরিশ্রম করে যে বেতন পান, তা দিয়ে এখন আর সংসার চলে না। সবকিছুর দাম বাড়লেও তাঁদের বেতন আগের জায়গায় রয়ে গেছে। বাধ্য হয়েই রাস্তায় নেমেছেন তাঁরা। কাজ করতে চান, তবে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার মতো বেতনও প্রয়োজন।কারখানার শ্রমিক ও শিল্প পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে কোনাবাড়ী, মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন। এর মধ্যে সরকার শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এরপরও শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।শনিবার দুপুরে টিফিন বিরতির সময় কাজে যোগ না দিয়ে ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে সড়কে ময়লা-আবর্জনার বস্তা ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন তাঁরা। একপর্যায়ে পাশের ডিভাইন টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিকেরাও আন্দোলনে যোগ দেন। পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। ছুটি পাওয়া কারখানার শ্রমিকদের একাংশও বিক্ষোভে অংশ নেন।খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিতে লাঠিপেটা শুরু করে পুলিশ। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশের একটি গাড়ির সামনের কাচসহ অন্তত ১৫টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরে শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে গেলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় শ্রমিক ও পুলিশ সদস্যসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহত শ্রমিকেরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।ডিভাইন টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিক কবির হোসেন অভিযোগ করেন, পুলিশের লাঠিপেটায় তাঁদের ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। টিয়ারশেল নিক্ষেপেও অনেকে আহত হয়েছেন। তিনি জানান, শনিবারের মতো রবিবার সকাল থেকেও তাঁদের আন্দোলন চলবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪