ঢাকা    শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
RTN News

নতুন হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা ও ডেটা সেন্টারে আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের


প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

নতুন হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা ও ডেটা সেন্টারে আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি মোহসিন রেজায়ি। ছবি: রয়টার্স

নতুন হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা ও ডেটা সেন্টারে আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল নতুন করে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশের তেল স্থাপনা, সমুদ্রতলের যোগাযোগ ক্যাবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসিন রেজায়ি এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে ইরানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত বন্ধে আলোচনায় যুক্ত দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মেহদি মোহাম্মদি দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নীতিগতভাবে নতুন করে হামলার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে এ হামলায় সফলতা নিশ্চিত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

মোহাম্মদি বলেন, ইরান পরবর্তী সংঘাতকে অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। দুই বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো যুদ্ধ শুরু হলে তা দেশটির অস্তিত্বের জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ পরিস্থিতিতে ইরানের কৌশল হবে প্রচলিত সীমারেখা না মেনে সংঘাতের সময়কাল ও ভৌগোলিক পরিসর বাড়িয়ে দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, শত্রুপক্ষ যতটা ধারণা করছে, সম্ভাব্য যুদ্ধ তার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং আরও বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলার জবাবে ইরান কতটা সক্ষমতা দেখাতে পারবে এবং চীন বা রাশিয়ার কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিক সহায়তা পাবে কি না, তা ওয়াশিংটনের যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইরানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে মোহসিন রেজায়ির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে যোগাযোগ ক্যাবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তাঁর ভাষ্য, ইরানের অর্থনৈতিক জীবনরেখায় হামলা চালানো হলে সেই হামলায় সহায়তাকারী অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে নিরাপদ রাখার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে যৌথ হামলার সম্ভাবনা সামনে রেখে দেশটির সামরিক উপদেষ্টারা লক্ষ্যবস্তুর একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরি করেছেন।

এদিকে ইরান, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের সংকট নিয়ে সমন্বিত নীতি নির্ধারণে শুক্রবার ইস্তাম্বুলে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তিনটি ইউরোপীয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসরের প্রতিনিধিদের। তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয় পক্ষই নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন আশঙ্কার মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার দাবি

বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা চারটি বাণিজ্যিক জাহাজে একই সময়ে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। জাহাজগুলো থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করা হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে আরও তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে আইআরজিসি। তবে এসব ঘটনার বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৩ দশমিক ৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি।

গত চার মাসে সাতবার ইরানে নতুন করে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কূটনৈতিক আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ায় সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন। সম্ভাব্য অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, তেল অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে। ইরাকের আকাশসীমা দিয়ে উড্ডয়নসহ বিভিন্ন অভিযানের অনুশীলনও চলছে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরাইলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ইরানের সীমান্তের কাছাকাছি উড়েছে।

এ ছাড়া মধ্য ইরানের আরাক শহরের একটি বড় অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির ভেতরে অন্তর্ঘাতমূলক অভিযান চলার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

সোমবার ইসরাইলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। সেখানে সম্ভাব্য যৌথ হামলার সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য হামলা নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনায় কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু চান ইরান আগে হামলা চালাক। সোমবারের বৈঠকে তিনি হেগসেথকে এ মনোভাবের কথা জানিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি বিমানবাহী রণতরি, কয়েক হাজার মেরিন সেনা, যুদ্ধবিমান ও বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

 আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ রেজা নাসরি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের তৃতীয় ধাপ শুরু হলে তা কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পুরো অঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রিড, লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্র, তেল শোধনাগার ও বন্দরগুলো হামলার শিকার হতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষ পানি ও বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়তে পারে এবং আরব দেশগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ শরণার্থী হিসেবে ইউরোপের দিকে যেতে পারে।

নাসরির ভাষ্য, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ইসরাইলের অর্থনীতির ওপরও বড় চাপ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে এ ধরনের সংঘাত ট্রাম্প প্রশাসনকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ফেলতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান বিভিন্ন সামরিক ও অভিযান পরিচালনাকারী ইউনিটকে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে, বিশেষ করে ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যা বা বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে, ইরানের পাল্টা জবাব শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুও হামলার আওতায় আসতে পারে।

এদিকে যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজতে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা চলতি সপ্তাহে আবারও আলোচনা করেছেন। সেখানে আগের কিছু প্রস্তাব নতুন করে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ তুলে নেওয়া, বোমা হামলার শিকার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শকদের সুযোগ দেওয়া এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর বিনিময়ে কয়েক বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া।

সব মিলিয়ে, নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা শুধু ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো এবং বিশ্ববাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।

বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র ইরান ইসরাইল

RTN News

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


নতুন হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা ও ডেটা সেন্টারে আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নতুন হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা ও ডেটা সেন্টারে আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল নতুন করে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশের তেল স্থাপনা, সমুদ্রতলের যোগাযোগ ক্যাবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসিন রেজায়ি এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে ইরানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত বন্ধে আলোচনায় যুক্ত দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মেহদি মোহাম্মদি দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নীতিগতভাবে নতুন করে হামলার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে এ হামলায় সফলতা নিশ্চিত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

মোহাম্মদি বলেন, ইরান পরবর্তী সংঘাতকে অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। দুই বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো যুদ্ধ শুরু হলে তা দেশটির অস্তিত্বের জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ পরিস্থিতিতে ইরানের কৌশল হবে প্রচলিত সীমারেখা না মেনে সংঘাতের সময়কাল ও ভৌগোলিক পরিসর বাড়িয়ে দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, শত্রুপক্ষ যতটা ধারণা করছে, সম্ভাব্য যুদ্ধ তার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং আরও বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলার জবাবে ইরান কতটা সক্ষমতা দেখাতে পারবে এবং চীন বা রাশিয়ার কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিক সহায়তা পাবে কি না, তা ওয়াশিংটনের যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইরানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে মোহসিন রেজায়ির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে যোগাযোগ ক্যাবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তাঁর ভাষ্য, ইরানের অর্থনৈতিক জীবনরেখায় হামলা চালানো হলে সেই হামলায় সহায়তাকারী অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে নিরাপদ রাখার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে যৌথ হামলার সম্ভাবনা সামনে রেখে দেশটির সামরিক উপদেষ্টারা লক্ষ্যবস্তুর একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরি করেছেন।

এদিকে ইরান, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের সংকট নিয়ে সমন্বিত নীতি নির্ধারণে শুক্রবার ইস্তাম্বুলে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তিনটি ইউরোপীয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসরের প্রতিনিধিদের। তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয় পক্ষই নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন আশঙ্কার মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার দাবি

বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা চারটি বাণিজ্যিক জাহাজে একই সময়ে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। জাহাজগুলো থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করা হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে আরও তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে আইআরজিসি। তবে এসব ঘটনার বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৩ দশমিক ৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি।

গত চার মাসে সাতবার ইরানে নতুন করে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কূটনৈতিক আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ায় সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন। সম্ভাব্য অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, তেল অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে। ইরাকের আকাশসীমা দিয়ে উড্ডয়নসহ বিভিন্ন অভিযানের অনুশীলনও চলছে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরাইলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ইরানের সীমান্তের কাছাকাছি উড়েছে।

এ ছাড়া মধ্য ইরানের আরাক শহরের একটি বড় অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির ভেতরে অন্তর্ঘাতমূলক অভিযান চলার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

সোমবার ইসরাইলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। সেখানে সম্ভাব্য যৌথ হামলার সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য হামলা নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনায় কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু চান ইরান আগে হামলা চালাক। সোমবারের বৈঠকে তিনি হেগসেথকে এ মনোভাবের কথা জানিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি বিমানবাহী রণতরি, কয়েক হাজার মেরিন সেনা, যুদ্ধবিমান ও বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

 আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ রেজা নাসরি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের তৃতীয় ধাপ শুরু হলে তা কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পুরো অঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রিড, লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্র, তেল শোধনাগার ও বন্দরগুলো হামলার শিকার হতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষ পানি ও বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়তে পারে এবং আরব দেশগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ শরণার্থী হিসেবে ইউরোপের দিকে যেতে পারে।

নাসরির ভাষ্য, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ইসরাইলের অর্থনীতির ওপরও বড় চাপ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে এ ধরনের সংঘাত ট্রাম্প প্রশাসনকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ফেলতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান বিভিন্ন সামরিক ও অভিযান পরিচালনাকারী ইউনিটকে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে, বিশেষ করে ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যা বা বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে, ইরানের পাল্টা জবাব শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুও হামলার আওতায় আসতে পারে।

এদিকে যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজতে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা চলতি সপ্তাহে আবারও আলোচনা করেছেন। সেখানে আগের কিছু প্রস্তাব নতুন করে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ তুলে নেওয়া, বোমা হামলার শিকার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শকদের সুযোগ দেওয়া এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর বিনিময়ে কয়েক বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া।

সব মিলিয়ে, নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা শুধু ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো এবং বিশ্ববাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।



RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
নতুন হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা ও ডেটা সেন্টারে আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের
0:00 0:00
1.0x