কিউবাকে ঘিরে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে চীন ও রাশিয়া তাদের গোয়েন্দা ও ইলেকট্রনিক নজরদারি কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের সামরিক স্থাপনাগুলো বিদেশি নজরদারির আওতায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়নে কিউবাজুড়ে একাধিক সংকেত-গোয়েন্দা (সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স) স্থাপনার তথ্য উঠে এসেছে। এসব কেন্দ্র থেকে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক যোগাযোগ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের মতে, কিউবার ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে চীন ও রাশিয়া এমন কিছু নজরদারি অবকাঠামো গড়ে তুলেছে, যেগুলো থেকে Florida–এর দক্ষিণাঞ্চলের সামরিক যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ সম্ভব। বিশেষ করে United States Central Command এবং United States Southern Command–সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে কিউবায় মোট ১৮টি পরিচিত গোয়েন্দা স্থাপনার তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সরাসরি চীনের নিয়ন্ত্রণে এবং কয়েকটি রাশিয়ার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু স্থাপনা কিউবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে, পশ্চিম গোলার্ধে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব বিস্তারের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই এসব তৎপরতা পরিচালিত হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, কিউবা এখন প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের খুব কাছাকাছি অবস্থান থেকে কার্যক্রম পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে।
এদিকে কিউবার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত Guantánamo Bay Naval Base–সংলগ্ন এলাকাতেও নজরদারি কার্যক্রম বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক Tulsi Gabbard–এর নির্দেশনার পর কিউবাকে ঘিরে মার্কিন নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ড্রোন তৎপরতা ও স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণও রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
অন্যদিকে, চীন যুক্তরাষ্ট্রের এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে। বেইজিংয়ের দাবি, কিউবার বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতেই ওয়াশিংটন ভিত্তিহীন তথ্য ছড়াচ্ছে। রাশিয়াও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও, মস্কো বরাবরের মতো কিউবার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।