ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
RTN News

২০২২ সালের তুলনায় রুশ সেনাবাহিনী এখন অনেক বেশি দক্ষ: ন্যাটো কমান্ডার


প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

২০২২ সালের তুলনায় রুশ সেনাবাহিনী এখন অনেক বেশি দক্ষ: ন্যাটো কমান্ডার

২০২২ সালের তুলনায় রুশ সেনাবাহিনী এখন অনেক বেশি দক্ষ: ন্যাটো কমান্ডার

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর ২০২২ সালের তুলনায় রাশিয়ার সেনাবাহিনী এখন অনেক বেশি উদ্ভাবনী এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ফরাসি অ্যাডমিরাল পিয়েরে ভান্দিয়ের। তাঁর মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ড্রোন প্রযুক্তিতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে রাশিয়া।

সম্প্রতি কানাডার সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুশ বাহিনীর এই পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন ন্যাটোর সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার ট্রান্সফরমেশন পিয়েরে ভান্দিয়ের।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রুশ সামরিক সদস্যরা ক্রমাগত শিখছেন এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, রাশিয়ার বর্তমান সেনাবাহিনী ২০২২ সালের শুরুর দিকের বাহিনীর মতো নেই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ও অগ্রগতি এসেছে।

বিশেষ করে মানববিহীন আকাশযান বা ড্রোন প্রযুক্তিতে রাশিয়ার উন্নতির বিষয়টি তুলে ধরেন এই ন্যাটো কর্মকর্তা। তাঁর মতে, ড্রোন ব্যবহারে রাশিয়ার নতুন ও উন্নত কৌশল ইউক্রেনের কিছু ড্রোন প্রতিরোধ ও ধ্বংস করার ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়েছে।

প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা ন্যাটোর

রুশ বাহিনীর এই অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর সামরিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভান্দিয়ের। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রযুক্তিগত দিক থেকে পশ্চিমা সামরিক জোট পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ঘটলেও ন্যাটো সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে ভবিষ্যতে অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়তে পারে।

পশ্চিমা দেশগুলোর শিল্পোৎপাদন সক্ষমতা ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ভান্দিয়ের বলেন, পশ্চিমাদের পর্যাপ্ত শিল্পভিত্তিক সক্ষমতা রয়েছে—এমন দাবির সঙ্গে তিনি একমত নন।

পশ্চিমা দেশগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধীরগতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতারও সমালোচনা করেন এই কর্মকর্তা। তাঁর অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা দীর্ঘ আলোচনা করলেও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেন। একই সঙ্গে অর্থ বরাদ্দে বিলম্ব এবং পুরোনো নিয়ম ও প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীলতাও সামরিক প্রস্তুতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ন্যাটোর এই ধীরগতির প্রক্রিয়া তাঁর কাছে গভীর উদ্বেগের কারণ বলেও উল্লেখ করেন ভান্দিয়ের।

 ন্যাটোকে ঘিরে রাশিয়ার পাল্টা বক্তব্য

অন্যদিকে, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে হামলার কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই বলে বারবার দাবি করে আসছে মস্কো। পশ্চিমা রাজনীতিকদের এ-সংক্রান্ত বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

পুতিনের দাবি, নিজেদের জনগণের মধ্যে ভীতি তৈরি করে সামরিক বাজেট ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার হুমকিকে তুলে ধরছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও ন্যাটোর সামরিক নীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ন্যাটো বর্তমানে সামরিকীকরণের দিকে এগোচ্ছে। জোটের সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করতেই রাশিয়াকে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ড্রোন প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং ন্যাটোর প্রস্তুতি নিয়ে এই বিতর্ক ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিরক্ষা কৌশল ও সামরিক শিল্পের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

সূত্র: সিবিসি ও রুশ সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে।

বিষয় : রাশিয়া

RTN News

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


২০২২ সালের তুলনায় রুশ সেনাবাহিনী এখন অনেক বেশি দক্ষ: ন্যাটো কমান্ডার

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

২০২২ সালের তুলনায় রুশ সেনাবাহিনী এখন অনেক বেশি দক্ষ: ন্যাটো কমান্ডার

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর ২০২২ সালের তুলনায় রাশিয়ার সেনাবাহিনী এখন অনেক বেশি উদ্ভাবনী এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ফরাসি অ্যাডমিরাল পিয়েরে ভান্দিয়ের। তাঁর মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ড্রোন প্রযুক্তিতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে রাশিয়া।

সম্প্রতি কানাডার সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুশ বাহিনীর এই পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন ন্যাটোর সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার ট্রান্সফরমেশন পিয়েরে ভান্দিয়ের।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রুশ সামরিক সদস্যরা ক্রমাগত শিখছেন এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, রাশিয়ার বর্তমান সেনাবাহিনী ২০২২ সালের শুরুর দিকের বাহিনীর মতো নেই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ও অগ্রগতি এসেছে।

বিশেষ করে মানববিহীন আকাশযান বা ড্রোন প্রযুক্তিতে রাশিয়ার উন্নতির বিষয়টি তুলে ধরেন এই ন্যাটো কর্মকর্তা। তাঁর মতে, ড্রোন ব্যবহারে রাশিয়ার নতুন ও উন্নত কৌশল ইউক্রেনের কিছু ড্রোন প্রতিরোধ ও ধ্বংস করার ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়েছে।

প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা ন্যাটোর

রুশ বাহিনীর এই অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর সামরিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভান্দিয়ের। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রযুক্তিগত দিক থেকে পশ্চিমা সামরিক জোট পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ঘটলেও ন্যাটো সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে ভবিষ্যতে অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়তে পারে।

পশ্চিমা দেশগুলোর শিল্পোৎপাদন সক্ষমতা ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ভান্দিয়ের বলেন, পশ্চিমাদের পর্যাপ্ত শিল্পভিত্তিক সক্ষমতা রয়েছে—এমন দাবির সঙ্গে তিনি একমত নন।

পশ্চিমা দেশগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধীরগতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতারও সমালোচনা করেন এই কর্মকর্তা। তাঁর অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা দীর্ঘ আলোচনা করলেও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেন। একই সঙ্গে অর্থ বরাদ্দে বিলম্ব এবং পুরোনো নিয়ম ও প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীলতাও সামরিক প্রস্তুতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ন্যাটোর এই ধীরগতির প্রক্রিয়া তাঁর কাছে গভীর উদ্বেগের কারণ বলেও উল্লেখ করেন ভান্দিয়ের।

 ন্যাটোকে ঘিরে রাশিয়ার পাল্টা বক্তব্য

অন্যদিকে, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে হামলার কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই বলে বারবার দাবি করে আসছে মস্কো। পশ্চিমা রাজনীতিকদের এ-সংক্রান্ত বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

পুতিনের দাবি, নিজেদের জনগণের মধ্যে ভীতি তৈরি করে সামরিক বাজেট ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার হুমকিকে তুলে ধরছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও ন্যাটোর সামরিক নীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ন্যাটো বর্তমানে সামরিকীকরণের দিকে এগোচ্ছে। জোটের সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করতেই রাশিয়াকে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ড্রোন প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং ন্যাটোর প্রস্তুতি নিয়ে এই বিতর্ক ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিরক্ষা কৌশল ও সামরিক শিল্পের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

সূত্র: সিবিসি ও রুশ সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে।



RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
২০২২ সালের তুলনায় রুশ সেনাবাহিনী এখন অনেক বেশি দক্ষ: ন্যাটো কমান্ডার
0:00 0:00
1.0x