অস্ত্রের বদলে বাঁশের লাঠি নিয়ে মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা ইশরাকের
মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর এবার বাঁশের লাঠি নিয়ে মাদকের আস্তানা ধ্বংস করার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা কয়েকটি গণমাধ্যমের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, মাদকের সব আস্তানা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
পোস্টে ইশরাক হোসেন কয়েকটি গণমাধ্যমের সমালোচনা করে লেখেন, আইনজীবী প্যানেলের মাধ্যমে আইনের ধারা ব্যাখ্যা নেওয়ার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর খবর প্রকাশের ধরন নিয়ে তাঁর প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মাদকবিরোধী অভিযানের পর এসব গণমাধ্যম এমন আচরণ করছে, যেন তারা মাদকের আস্তানাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘ওয়েট অ্যান্ড সি। সব মাদকের আখড়া (যারা হয়তো এই পেপারগুলোকে অর্থায়ন করে) সেগুলো মাটির সঙ্গে মেশানো হবে।’
নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বৈধ লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র ছিল উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী লেখেন, এখন থেকে মাদকের আস্তানাগুলো বাঁশের লাঠি দিয়ে ধ্বংস করবেন। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকবে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে আটক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাবে।
পিস্তল হাতে অভিযানের ভিডিও ঘিরে আলোচনা
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে এক হাতে হ্যান্ডমাইক ও অন্য হাতে পিস্তল নিয়ে কয়েকজনকে ধাওয়া করতে দেখা যায় তাঁকে। একপর্যায়ে পিস্তলের স্লাইড টেনে তাঁদের দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়।
ভিডিওটি প্রকাশের পর ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স থাকলে এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যায় কি না এবং একজন জনপ্রতিনিধি নিজে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুলিশের
রোববার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দিতে সংশ্লিষ্ট ডিসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনের ব্যত্যয় হয়ে থাকলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
অভিযানের বিষয়ে যা বললেন ইশরাক
নিজের বক্তব্যে ইশরাক হোসেন দাবি করেন, মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে তিনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা সাময়িকভাবে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় থানা-পুলিশের সহযোগিতায় চার থেকে পাঁচটি মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ সময় মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।