ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
RTN News

টাকার কথা বলে ডেকে নেওয়া, পরে মিলল চপ বিক্রেতার মরদেহ


প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

টাকার কথা বলে ডেকে নেওয়া, পরে মিলল চপ বিক্রেতার মরদেহ
ছবি: সংগৃহীত

আলমডাঙ্গায় চপ-পেঁয়াজু বিক্রেতাকে বাড়িতে ডেকে হত্যা, পালিয়েছে অভিযুক্ত পরিবার

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় চয়েন আলী (৪০) নামে এক চপ-পেঁয়াজু বিক্রেতাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে ভ্যানে করে তার মরদেহ আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা সপরিবারে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ওসমানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত চয়েন আলী হারদী গ্রামের সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওসমানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে লাবনী খাতুনের সঙ্গে চয়েন আলীর কথিত সম্পর্ক ছিল। লাবনীর স্বামী হেলাল হোসেন কয়েকদিন আগে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে ওই সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ক্ষুব্ধ হন বলে জানা গেছে।

পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে টাকার লেনদেনের কথা বলে কৌশলে চয়েন আলীকে হেলালের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে দাবি স্বজনদের।

নিহতের ছেলে ফারুক হোসেন জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হেলাল তাকে ফোন করে বলেন, তার বাবা তার কাছে টাকা পান এবং চয়েন তার কাছে আটক আছেন। এ সময় ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প নিয়ে সেখানে যেতে বলা হয়।

ফারুকের দাবি, তারা স্ট্যাম্প নিয়ে ওসমানপুরে গেলে জানতে পারেন তার বাবা মারা গেছেন। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভ্যানে করে চয়েন আলীর মরদেহ আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর অভিযুক্তরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।

চয়েনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হত্যার বিচার দাবি করেছেন তার ছেলে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, লাবনী খাতুনের সঙ্গে চয়েন আলীর কথিত সম্পর্কের বিষয়টি হেলাল দেশে ফেরার পর জানতে পারেন। এরপর টাকার লেনদেনের কথা বলে চয়েনকে বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয় বলে তারা শুনেছেন। ঘটনার পর হেলাল ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও জানান তারা।

ওসমানপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই নবাব আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে চয়েন আলী ও লাবনী খাতুনের মধ্যে কথিত সম্পর্ক এবং টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে চয়েনকে কৌশলে হেলালের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

তিনি আরও বলেন, সেখানে নির্যাতনের পর চয়েনের মরদেহ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়ে অভিযুক্তরা সপরিবারে পালিয়ে গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের আটকের জন্য অভিযান চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার সময় চয়েন আলীর গলা, পিঠ ও থুতনির নিচে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। এগুলো ধারালো অস্ত্রের আঘাত নয়; অন্য কোনো কিছুর আঘাত হতে পারে। ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

বিষয় : চুয়াডাঙ্গা

RTN News

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


টাকার কথা বলে ডেকে নেওয়া, পরে মিলল চপ বিক্রেতার মরদেহ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

আলমডাঙ্গায় চপ-পেঁয়াজু বিক্রেতাকে বাড়িতে ডেকে হত্যা, পালিয়েছে অভিযুক্ত পরিবার

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় চয়েন আলী (৪০) নামে এক চপ-পেঁয়াজু বিক্রেতাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে ভ্যানে করে তার মরদেহ আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা সপরিবারে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ওসমানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত চয়েন আলী হারদী গ্রামের সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওসমানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে লাবনী খাতুনের সঙ্গে চয়েন আলীর কথিত সম্পর্ক ছিল। লাবনীর স্বামী হেলাল হোসেন কয়েকদিন আগে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে ওই সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ক্ষুব্ধ হন বলে জানা গেছে।

পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে টাকার লেনদেনের কথা বলে কৌশলে চয়েন আলীকে হেলালের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে দাবি স্বজনদের।

নিহতের ছেলে ফারুক হোসেন জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হেলাল তাকে ফোন করে বলেন, তার বাবা তার কাছে টাকা পান এবং চয়েন তার কাছে আটক আছেন। এ সময় ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প নিয়ে সেখানে যেতে বলা হয়।

ফারুকের দাবি, তারা স্ট্যাম্প নিয়ে ওসমানপুরে গেলে জানতে পারেন তার বাবা মারা গেছেন। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভ্যানে করে চয়েন আলীর মরদেহ আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর অভিযুক্তরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।

চয়েনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হত্যার বিচার দাবি করেছেন তার ছেলে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, লাবনী খাতুনের সঙ্গে চয়েন আলীর কথিত সম্পর্কের বিষয়টি হেলাল দেশে ফেরার পর জানতে পারেন। এরপর টাকার লেনদেনের কথা বলে চয়েনকে বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয় বলে তারা শুনেছেন। ঘটনার পর হেলাল ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও জানান তারা।

ওসমানপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই নবাব আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে চয়েন আলী ও লাবনী খাতুনের মধ্যে কথিত সম্পর্ক এবং টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে চয়েনকে কৌশলে হেলালের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

তিনি আরও বলেন, সেখানে নির্যাতনের পর চয়েনের মরদেহ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়ে অভিযুক্তরা সপরিবারে পালিয়ে গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের আটকের জন্য অভিযান চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার সময় চয়েন আলীর গলা, পিঠ ও থুতনির নিচে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। এগুলো ধারালো অস্ত্রের আঘাত নয়; অন্য কোনো কিছুর আঘাত হতে পারে। ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
টাকার কথা বলে ডেকে নেওয়া, পরে মিলল চপ বিক্রেতার মরদেহ
0:00 0:00
1.0x