ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
RTN News

লোহিত সাগরে হুতিদের অগ্রযাত্রায় উচ্ছ্বসিত ইরান


প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

লোহিত সাগরে হুতিদের অগ্রযাত্রায় উচ্ছ্বসিত ইরান
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। ছবি: এএফপি

লোহিত সাগরে হুতিদের অগ্রযাত্রায় উচ্ছ্বসিত ইরান

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে ইরানের সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তেহরানের অনেকের মতে, হুতিদের এই অগ্রযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

জাইদি শিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর থেকে পশ্চিমাসমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। চলতি সপ্তাহে তারা লোহিত সাগরের কয়েকটি উপকূলীয় শহর ও দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালির ওপরও তাদের প্রভাব বেড়েছে।

তেহরানে হুতিদের এই সাফল্যকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। গতকাল শনিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মহেবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে আনসারুল্লাহর এই জয় বহু বছরের দৃঢ়তার ফল।

সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর সাম্প্রতিক পরাজয়ের পর ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও হুতিদের প্রশংসা করেছেন। গত শুক্রবার কৌশলগত বন্দর শহর মোখা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ায় ইয়েমেন সরকার বড় ধরনের ধাক্কা খায়। এর ফলে লোহিত সাগরের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগের পথ সংকুচিত হয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুতিদের প্রতিরোধের প্রশংসা করে বলেন, এই প্রতিরোধ তাদের বিজয় এনে দেবে। তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহর ইচ্ছায় বীর ইয়েমেনি জনগণ জয়ী হবে।

ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফও হুতিদের অগ্রযাত্রায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের বলেন, হুতিদের এই বিজয় আবারও প্রমাণ করেছে যে নিরাপত্তা কেনা যায় না।

২০২৩ সাল থেকে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধে চাপ তৈরির অংশ হিসেবে লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে হুতিরা। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েল ইয়েমেনের হুতিনিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে। তবে ২০১৫ সালে হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেওয়া সৌদি আরব সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে তুলনামূলকভাবে দূরে রয়েছে।

সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রার ফলে লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও বেড়েছে। ইয়েমেনের মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ময়ুন বা পেরিম দ্বীপসহ বেশ কয়েকটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর নজরদারির সক্ষমতা তাদের বেড়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিওতে এক হুতি কমান্ডারকে সৈন্যদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচলে হুমকি তৈরি করতে এখন আর শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের ওপর নির্ভর করতে হবে না। উপকূলে কামান স্থাপন করেও জাহাজে হামলা চালানো সম্ভব।

হুতিরা বাব এল-মান্দেব পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা না দিলেও তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে জানিয়েছেন, সৌদি জাহাজ ছাড়া অন্য কোম্পানির জাহাজের জন্য সমুদ্রপথ নিরাপদ থাকবে।

অন্যদিকে, আরব উপদ্বীপের পূর্বদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাবও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যৎ আলোচনায় যুদ্ধ বন্ধের জন্য এই প্রণালি বন্ধের হুমকিকে তেহরান কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনার জন্য আগামী সোমবার আঞ্চলিক আরব প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের বৈঠকের কথা রয়েছে। তেহরানের দাবি, প্রণালিটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং এটি পরিচালনায় একটি যৌথ আঞ্চলিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

এদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের কর্মকর্তারা। শনিবার আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত কোনো সংলাপ বা আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না।

ইরানের কট্টরপন্থী ও আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমগুলোও হুতিদের সাম্প্রতিক সাফল্য উদযাপন করেছে। দৈনিক কায়হান এই ঘটনাকে ‘প্রতিরোধের অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছে, এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চাপে পড়েছে। আর কুদস সংবাদপত্র ইরান ও হুতিদের যৌথভাবে ‘প্রণালির শাসক’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুতিদের এই অগ্রযাত্রাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তেহরানের চলমান যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করছে না। মন্ত্রণালয়ের দাবি, হুতিরা ইরানের প্রক্সি নয়; বরং নিজেদের স্বার্থ ও ইয়েমেনের ওপর সৌদি অবরোধ বন্ধের লক্ষ্যেই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়।

একই সঙ্গে হুতিনিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের এলাকাগুলো থেকে সৌদি অবরোধ তুলে নেওয়া, রিয়াদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা শুরু এবং ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শুক্রবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ইয়েমেনে বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের অবরোধের কারণে মানুষের ধৈর্যচ্যুত হওয়ার ফল। তাঁর দাবি, ইয়েমেনিরা বুঝতে পেরেছে যে জাতিসংঘ বা আঞ্চলিক কোনো উদ্যোগ তাদের সংকট সমাধান করতে পারছে না।

বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র ইরান হরমুজ প্রণালি হুতি লোহিত সাগর

RTN News

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


লোহিত সাগরে হুতিদের অগ্রযাত্রায় উচ্ছ্বসিত ইরান

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

লোহিত সাগরে হুতিদের অগ্রযাত্রায় উচ্ছ্বসিত ইরান

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে ইরানের সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তেহরানের অনেকের মতে, হুতিদের এই অগ্রযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

জাইদি শিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর থেকে পশ্চিমাসমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। চলতি সপ্তাহে তারা লোহিত সাগরের কয়েকটি উপকূলীয় শহর ও দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালির ওপরও তাদের প্রভাব বেড়েছে।

তেহরানে হুতিদের এই সাফল্যকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। গতকাল শনিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মহেবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে আনসারুল্লাহর এই জয় বহু বছরের দৃঢ়তার ফল।

সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর সাম্প্রতিক পরাজয়ের পর ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও হুতিদের প্রশংসা করেছেন। গত শুক্রবার কৌশলগত বন্দর শহর মোখা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ায় ইয়েমেন সরকার বড় ধরনের ধাক্কা খায়। এর ফলে লোহিত সাগরের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগের পথ সংকুচিত হয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুতিদের প্রতিরোধের প্রশংসা করে বলেন, এই প্রতিরোধ তাদের বিজয় এনে দেবে। তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহর ইচ্ছায় বীর ইয়েমেনি জনগণ জয়ী হবে।

ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফও হুতিদের অগ্রযাত্রায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের বলেন, হুতিদের এই বিজয় আবারও প্রমাণ করেছে যে নিরাপত্তা কেনা যায় না।

২০২৩ সাল থেকে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধে চাপ তৈরির অংশ হিসেবে লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে হুতিরা। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েল ইয়েমেনের হুতিনিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে। তবে ২০১৫ সালে হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেওয়া সৌদি আরব সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে তুলনামূলকভাবে দূরে রয়েছে।

সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রার ফলে লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও বেড়েছে। ইয়েমেনের মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ময়ুন বা পেরিম দ্বীপসহ বেশ কয়েকটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর নজরদারির সক্ষমতা তাদের বেড়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিওতে এক হুতি কমান্ডারকে সৈন্যদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচলে হুমকি তৈরি করতে এখন আর শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের ওপর নির্ভর করতে হবে না। উপকূলে কামান স্থাপন করেও জাহাজে হামলা চালানো সম্ভব।

হুতিরা বাব এল-মান্দেব পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা না দিলেও তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে জানিয়েছেন, সৌদি জাহাজ ছাড়া অন্য কোম্পানির জাহাজের জন্য সমুদ্রপথ নিরাপদ থাকবে।

অন্যদিকে, আরব উপদ্বীপের পূর্বদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাবও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যৎ আলোচনায় যুদ্ধ বন্ধের জন্য এই প্রণালি বন্ধের হুমকিকে তেহরান কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনার জন্য আগামী সোমবার আঞ্চলিক আরব প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের বৈঠকের কথা রয়েছে। তেহরানের দাবি, প্রণালিটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং এটি পরিচালনায় একটি যৌথ আঞ্চলিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

এদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের কর্মকর্তারা। শনিবার আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত কোনো সংলাপ বা আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না।

ইরানের কট্টরপন্থী ও আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমগুলোও হুতিদের সাম্প্রতিক সাফল্য উদযাপন করেছে। দৈনিক কায়হান এই ঘটনাকে ‘প্রতিরোধের অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছে, এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চাপে পড়েছে। আর কুদস সংবাদপত্র ইরান ও হুতিদের যৌথভাবে ‘প্রণালির শাসক’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুতিদের এই অগ্রযাত্রাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তেহরানের চলমান যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করছে না। মন্ত্রণালয়ের দাবি, হুতিরা ইরানের প্রক্সি নয়; বরং নিজেদের স্বার্থ ও ইয়েমেনের ওপর সৌদি অবরোধ বন্ধের লক্ষ্যেই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়।

একই সঙ্গে হুতিনিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের এলাকাগুলো থেকে সৌদি অবরোধ তুলে নেওয়া, রিয়াদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা শুরু এবং ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শুক্রবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ইয়েমেনে বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের অবরোধের কারণে মানুষের ধৈর্যচ্যুত হওয়ার ফল। তাঁর দাবি, ইয়েমেনিরা বুঝতে পেরেছে যে জাতিসংঘ বা আঞ্চলিক কোনো উদ্যোগ তাদের সংকট সমাধান করতে পারছে না।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
লোহিত সাগরে হুতিদের অগ্রযাত্রায় উচ্ছ্বসিত ইরান
0:00 0:00
1.0x