ঢাকা    বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
RTN News

মাদ্রাসা সম্প্রসারণে ১২৫ বছরের পুরোনো হিন্দু মন্দির ভাঙার অভিযোগ পাকিস্তানে


প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

মাদ্রাসা সম্প্রসারণে ১২৫ বছরের পুরোনো হিন্দু মন্দির ভাঙার অভিযোগ পাকিস্তানে
শত বছরের পুরোনো মন্দির। ছবি: সংগৃহীত

মাদ্রাসা সম্প্রসারণে ১২৫ বছরের পুরোনো হিন্দু মন্দির ভাঙার অভিযোগ পাকিস্তানে

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে একটি মাদ্রাসার সম্প্রসারণের জন্য প্রায় ১২৫ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দেশটির সংখ্যালঘু সংগঠন ও অধিকারকর্মীরা তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

লাহোর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে নারোওয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে অবস্থিত মন্দিরটি প্রায় ১ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা, সংখ্যালঘু সংগঠন ও একটি রাজনৈতিক দল মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ এবং এর জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২১ আগস্ট তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তানের (টিএলপি) সদস্য হিসেবে পরিচিত একদল লোক পাশের একটি মাদ্রাসা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে মন্দিরটি ভেঙে ফেলে। তবে পাকিস্তান সরকারের বক্তব্য ভিন্ন। সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, ভারী বৃষ্টির কারণে প্রায় ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরোনো স্থাপনাটি ধসে পড়েছে।

সংখ্যালঘুদের অধিকারভিত্তিক রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মাসিহা মিল্লাত পার্টির (পিএমএমপি) চেয়ারম্যান আসলাম পারভেজ সাহোত্রা মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পিটিআইকে সাহোত্রা জানান, ২৮ আগস্ট তিনি পাঞ্জাবের অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। সেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মন্দির রক্ষায় ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

সাহোত্রার অভিযোগ, মন্দিরটি ভেঙে ফেলার পর এর শিখরের ধাতব অংশ, ইটসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, মন্দিরের সংলগ্ন জমি আগে একটি মাদ্রাসার জন্য ইজারা দিয়েছিল সরকারি সংস্থা ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড (ইটিপিবি)। তবে ভাড়া বকেয়া থাকা এবং নির্ধারিত কাজে জমি ব্যবহার না করায় পরবর্তীতে সেই ইজারা বাতিল করা হয়।

রাজস্ব বিভাগের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সাহোত্রা আরও দাবি করেন, কয়েকজন ব্যক্তি মন্দিরের কোয়ার্টার ও অন্যান্য অংশ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিলেন। গত ২৯ জানুয়ারি ইটিপিবির শিয়ালকোট কার্যালয় দখলদারদের উচ্ছেদ ও সম্পত্তি সিলগালা করার নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা রতন লালও মন্দির ধ্বংসের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, জেলা প্রশাসন ও ইটিপিবি মন্দিরটি রক্ষা কিংবা অবৈধ দখলদারদের সরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

নারোওয়াল জেলা শান্তি কমিটি ও পাক ধর্ম আস্থান হিন্দু কমিটির সদস্য রতন লাল বলেন, মন্দির চত্বরে মাদ্রাসা পরিচালিত হওয়ায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা নিরাপত্তার আশঙ্কায় সেখানে যেতে ভয় পান।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইটিপিবির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রানা ইফতিখার বলেন, মন্দিরটি ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরোনো একটি স্থাপনা এবং মুষলধারে বৃষ্টির কারণেই এটি ধসে পড়েছে। তার দাবি, সরকারি নথিতে মন্দিরটির কোনো নাম উল্লেখ নেই।

তবে গত ১১ এপ্রিলের একটি পুলিশ প্রতিবেদনে মন্দিরটির নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ভবিষ্যতে স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ ছিল বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ইফতিখার স্বীকার করেন, মন্দিরসংলগ্ন জমি একটি মাদ্রাসার জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল। তবে তার দাবি, মন্দিরের মূল জমি কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের বিষয়ে ইটিপিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি।

বিষয় : পাকিস্তান মন্দির

RTN News

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মাদ্রাসা সম্প্রসারণে ১২৫ বছরের পুরোনো হিন্দু মন্দির ভাঙার অভিযোগ পাকিস্তানে

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মাদ্রাসা সম্প্রসারণে ১২৫ বছরের পুরোনো হিন্দু মন্দির ভাঙার অভিযোগ পাকিস্তানে

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে একটি মাদ্রাসার সম্প্রসারণের জন্য প্রায় ১২৫ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দেশটির সংখ্যালঘু সংগঠন ও অধিকারকর্মীরা তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

লাহোর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে নারোওয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে অবস্থিত মন্দিরটি প্রায় ১ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা, সংখ্যালঘু সংগঠন ও একটি রাজনৈতিক দল মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ এবং এর জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২১ আগস্ট তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তানের (টিএলপি) সদস্য হিসেবে পরিচিত একদল লোক পাশের একটি মাদ্রাসা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে মন্দিরটি ভেঙে ফেলে। তবে পাকিস্তান সরকারের বক্তব্য ভিন্ন। সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, ভারী বৃষ্টির কারণে প্রায় ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরোনো স্থাপনাটি ধসে পড়েছে।

সংখ্যালঘুদের অধিকারভিত্তিক রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মাসিহা মিল্লাত পার্টির (পিএমএমপি) চেয়ারম্যান আসলাম পারভেজ সাহোত্রা মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পিটিআইকে সাহোত্রা জানান, ২৮ আগস্ট তিনি পাঞ্জাবের অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। সেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মন্দির রক্ষায় ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

সাহোত্রার অভিযোগ, মন্দিরটি ভেঙে ফেলার পর এর শিখরের ধাতব অংশ, ইটসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, মন্দিরের সংলগ্ন জমি আগে একটি মাদ্রাসার জন্য ইজারা দিয়েছিল সরকারি সংস্থা ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড (ইটিপিবি)। তবে ভাড়া বকেয়া থাকা এবং নির্ধারিত কাজে জমি ব্যবহার না করায় পরবর্তীতে সেই ইজারা বাতিল করা হয়।

রাজস্ব বিভাগের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সাহোত্রা আরও দাবি করেন, কয়েকজন ব্যক্তি মন্দিরের কোয়ার্টার ও অন্যান্য অংশ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিলেন। গত ২৯ জানুয়ারি ইটিপিবির শিয়ালকোট কার্যালয় দখলদারদের উচ্ছেদ ও সম্পত্তি সিলগালা করার নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা রতন লালও মন্দির ধ্বংসের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, জেলা প্রশাসন ও ইটিপিবি মন্দিরটি রক্ষা কিংবা অবৈধ দখলদারদের সরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

নারোওয়াল জেলা শান্তি কমিটি ও পাক ধর্ম আস্থান হিন্দু কমিটির সদস্য রতন লাল বলেন, মন্দির চত্বরে মাদ্রাসা পরিচালিত হওয়ায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা নিরাপত্তার আশঙ্কায় সেখানে যেতে ভয় পান।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইটিপিবির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রানা ইফতিখার বলেন, মন্দিরটি ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরোনো একটি স্থাপনা এবং মুষলধারে বৃষ্টির কারণেই এটি ধসে পড়েছে। তার দাবি, সরকারি নথিতে মন্দিরটির কোনো নাম উল্লেখ নেই।

তবে গত ১১ এপ্রিলের একটি পুলিশ প্রতিবেদনে মন্দিরটির নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ভবিষ্যতে স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ ছিল বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ইফতিখার স্বীকার করেন, মন্দিরসংলগ্ন জমি একটি মাদ্রাসার জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল। তবে তার দাবি, মন্দিরের মূল জমি কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের বিষয়ে ইটিপিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
মাদ্রাসা সম্প্রসারণে ১২৫ বছরের পুরোনো হিন্দু মন্দির ভাঙার অভিযোগ পাকিস্তানে
0:00 0:00
1.0x