এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহালের দাবি জামায়াতের
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, রহস্যজনক কারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ করতে চাইছে। এ সিদ্ধান্ত সংবিধানে নাগরিকের সমতা ও বৈষম্যহীনতার অধিকারের পরিপন্থী।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এমপিওভুক্ত একজন শিক্ষক যদি সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করতে পারেন, তাহলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না—এমন বিধান হতে পারে না। কমিশনের এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
তিনি বলেন, জামায়াতের দাবি মানা না হলে স্থানীয় নির্বাচন বর্জনের কথা বলার মতো সময় ও পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। নির্বাচন কমিশনের ওপর তাঁরা এখনো আস্থাশীল।
তবে নির্বাচন কমিশনের ওপর রাজনৈতিক চাপ থাকার ইঙ্গিত দিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ক্ষমতায় যেহেতু দলীয় সরকার রয়েছে, তাই কমিশনের ওপর তাদের একটি চাপ আছে। কমিশনের বক্তব্য শুনলেও বিষয়টি বোঝা যায়। কোথাও একটা অসহায়ত্ব রয়েছে; সব কথা যেন তাঁরা মন খুলে বলতে পারছেন না।
এর আগে মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামীর ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়াসহ নয় দফা লিখিত দাবি তুলে ধরে জামায়াত। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব দাবির বেশির ভাগই গত ২৯ জুলাই সিইসির সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠকেও তুলে ধরা হয়েছিল।
জামায়াতের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দলটির নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও নির্বাচন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এমপি, নির্বাচন কমিটির সেক্রেটারি ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, নির্বাচন কমিটির সদস্য আব্দুর রব এবং ইয়াসির আরাফাত।