মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার নিয়ে নতুন শঙ্কা, পাল্টাপাল্টি হামলায় বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানকে ঘিরে সংঘাতের প্রভাব পারস্য উপসাগরের বাইরে লোহিতসাগর, জর্ডান, ইরাক এবং মিশরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন পক্ষের দাবি। পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা, জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত এবং কৌশলগত বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা উদ্বেগ নতুন করে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এদিকে জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। অপরদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের হামলায় জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে থাকা কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংঘাতের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে লোহিতসাগরেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ ও সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি ও কাস্পিয়ান সাগর ঘিরেও উত্তেজনা বাড়ছে। ইরানের দাবি, কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নাবিক নিহত ও আরেকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনীতিককে তলব করেছে তেহরান।
অন্যদিকে, মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর নগরী দামিয়েত্তায় দুটি গ্যাসবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মিশর সরকার জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জর্ডানে হামলার জবাবে ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালানো হয়েছে। এতে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, উপকূলীয় নজরদারি ও সামরিক কমান্ড-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় সময়ে উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।