যমুনার ভাঙনে টাঙ্গাইলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১০০ ফুট নদীগর্ভে, যান চলাচল বন্ধ
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ১০০ ফুট অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাঁধের অবশিষ্ট অংশেও বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় যে কোনো সময় আরও বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি উঠেছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া স্লুইস গেটসংলগ্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। দুপুরের মধ্যেই মূল বাঁধের প্রায় ১০০ ফুট অংশ যমুনার গর্ভে চলে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে বাঁধসংলগ্ন আঞ্চলিক মহাসড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দি থেকে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ঝোঁকারচর পর্যন্ত প্রায় ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বাঁধটি যমুনার ভাঙন ও বন্যা থেকে দুই জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা রক্ষা করে। টানা তিন দিনের উজানের ঢল ও নদীর প্রবল স্রোতে সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্তের কারণে বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৯ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে এবং আরও জিওব্যাগ ডাম্পিং অব্যাহত রয়েছে।
হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামসুল আলম বলেন, জিওব্যাগের পাশাপাশি গাছপালা ফেলেও ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। বাঁধের অবশিষ্ট অংশও যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে। এ কারণে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ ঘরবাড়ির মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের মতে, অতীতেও এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর সহায়তায় ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছিল।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আওয়াল জানান, মূল বাঁধের স্লোপসহ আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় অর্ধেক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবশিষ্ট অংশেও বড় ধরনের ফাটল দেখা দেওয়ায় বাঁধটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নদীতলের ক্ষয় নিরূপণে ইকো সার্ভে পরিচালনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দুপুরে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। তিনি বলেন, বাঁধের একটি অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং অবশিষ্ট অংশও মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। বাঁধ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।