খুলনায় স্কুল-কলেজ ভবনের ছাদ ধস, অল্পের জন্য রক্ষা পেল শতাধিক শিক্ষার্থী
উপশিরোনাম:
ছুটির দিনে দুর্ঘটনা হওয়ায় হতাহতের ঘটনা নেই; ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা, অনির্দিষ্টকালের জন্য পাঠদান বন্ধ
সংবাদ:
খুলনার কয়রা উপজেলার গাজী আব্দুল জব্বার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবনের নিচতলার ছাদ ধসে পড়েছে। শুক্রবার (দুপুর ১২টার দিকে) গোবিন্দপুর এলাকায় অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে এ ঘটনা ঘটে। ছুটির দিন হওয়ায় ভবনে কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক না থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে।
দুর্ঘটনার পর শনিবার থেকে ভবনটিতে পাঠদান ও সব ধরনের দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত গাজী আব্দুল জব্বার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি শ্রেণিকক্ষ সংকটে ভুগছে। ১৯৯৫ সালে নির্মিত একতলা ভবনটি ২০০১ সালে দ্বিতল করা হলেও এরপর আর উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার দুপুরে বিকট শব্দ শুনে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন ভবনের নিচতলার ছাদের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কলেজ শাখার ইসলামী শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান ও দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছিল। একমাত্র পাকা ভবনের নিচতলার ছাদ ধসে পড়ায় এখন শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রধান শিক্ষক সাইফুল্লাহ হায়দার বলেন, ভবনটিতে মোট আটটি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে নিচতলার দুটি কক্ষ অফিস এবং বাকি কক্ষগুলো শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ছাদ ধসে পড়ার পর ভবনটিকে অনিরাপদ বিবেচনায় সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভবনটি আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ছিল এবং সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠদান ও দাপ্তরিক কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।