ঢাকা    শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
RTN News

আলোচনা থমকে, ফের যুদ্ধের পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: হরমুজ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা


প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

আলোচনা থমকে, ফের যুদ্ধের পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: হরমুজ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা
ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ফাইল ছবি

আলোচনা থমকে, ফের যুদ্ধের পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: হরমুজ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা

উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলা, মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের আঘাত; সংঘাত বন্ধে সংলাপের আহ্বান পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আলোচনার অগ্রগতি থেমে যাওয়ার মধ্যেই আবারও তীব্র হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা। বৃহস্পতিবার টানা ষষ্ঠ দিনের মতো দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে। একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অবকাঠামোয় আরও হামলা চালায়, তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা সব মার্কিন স্থাপনাই তাদের লক্ষ্যবস্তু হবে।

এর আগে বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, চাবাহারসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং উপকূলীয় নজরদারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পাল্টা জবাবে ইরান জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি ও জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তবে কুয়েত জানিয়েছে, তারা চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ২১টি ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান আলোচনার টেবিলে না ফিরলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মাধ্যমে আগের সব কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যত ভেঙে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। ইরান এটিকে নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছে, আর যুক্তরাষ্ট্র চায় না এ কৌশলগত নৌপথে ইরানের একক প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হোক। তেহরান আবারও স্পষ্ট করেছে, হরমুজ প্রণালি তাদের জন্য ‘অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা’।

এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যেই একটি তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ‘বেলমা’ নামের জাহাজটি একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনালের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।

পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঠেকাতে পাকিস্তান উভয় পক্ষকে সংঘাত বন্ধ করে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় কূটনৈতিক সমাধানের বিকল্প নেই এবং পাকিস্তান মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র ইরান হামলা

RTN News

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


আলোচনা থমকে, ফের যুদ্ধের পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: হরমুজ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

আলোচনা থমকে, ফের যুদ্ধের পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: হরমুজ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা

উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলা, মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের আঘাত; সংঘাত বন্ধে সংলাপের আহ্বান পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আলোচনার অগ্রগতি থেমে যাওয়ার মধ্যেই আবারও তীব্র হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা। বৃহস্পতিবার টানা ষষ্ঠ দিনের মতো দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে। একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অবকাঠামোয় আরও হামলা চালায়, তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা সব মার্কিন স্থাপনাই তাদের লক্ষ্যবস্তু হবে।

এর আগে বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, চাবাহারসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং উপকূলীয় নজরদারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পাল্টা জবাবে ইরান জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি ও জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তবে কুয়েত জানিয়েছে, তারা চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ২১টি ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান আলোচনার টেবিলে না ফিরলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মাধ্যমে আগের সব কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যত ভেঙে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। ইরান এটিকে নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছে, আর যুক্তরাষ্ট্র চায় না এ কৌশলগত নৌপথে ইরানের একক প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হোক। তেহরান আবারও স্পষ্ট করেছে, হরমুজ প্রণালি তাদের জন্য ‘অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা’।

এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যেই একটি তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ‘বেলমা’ নামের জাহাজটি একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনালের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।

পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঠেকাতে পাকিস্তান উভয় পক্ষকে সংঘাত বন্ধ করে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় কূটনৈতিক সমাধানের বিকল্প নেই এবং পাকিস্তান মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
আলোচনা থমকে, ফের যুদ্ধের পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: হরমুজ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা
0:00 0:00
1.0x