ঢাকা    রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
RTN News

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মাধবপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, তলিয়ে গেছে ফসল-খামার, ঝুঁকিতে সড়ক ও বসতঘর


প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মাধবপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, তলিয়ে গেছে ফসল-খামার, ঝুঁকিতে সড়ক ও বসতঘর
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সাতছড়ি-সুরমা চা বাগান এলাকায় নদীর ধস

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মাধবপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, তলিয়ে গেছে ফসল-খামার, ঝুঁকিতে সড়ক ও বসতঘর

গত তিন দিনের টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি, মাছের খামার, খাল, সড়ক এবং বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে খাল উপচে পড়ায় তলিয়ে গেছে সবজি ও আউশ ধানের ক্ষেত, ভেসে গেছে মাছের পুকুর। এছাড়া কয়েকটি বসতঘর নদী ও খালের ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুনারুঘাট-রামগঙ্গা সড়ক এবং ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের সাতছড়ি ও সুরমা চা বাগান এলাকায় একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর আগে টানা ভারী বর্ষণে রামগঙ্গা ও চণ্ডিছড়া মাজার এলাকায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সলের নির্দেশনায় হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করলেও নতুন করে বৃষ্টিতে সেই স্থানগুলো আবারও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বুধবার উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ জানান, ভবানীপুর এলাকায় নতুন খাল খননের পর পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে কয়েকটি বসতঘর ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত খাল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে আন্দিউড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে একাধিক মাছের খামার তলিয়ে গেছে। আন্দিউড়া গ্রামের মাছচাষি মুর্শেদ মিয়া জানান, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে তাঁর চারটি পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। একইভাবে আরও ১০ থেকে ১২ জন মাছচাষিও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক আলী হোসেন জানান, সীমনা ছড়া, হলহলিয়া ছড়া ও তেলিয়াপাড়া ছড়া দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি পানিতে কৃষিজমিতে পলি জমে বরবটি, শসা, লাউ, চালকুমড়া, চিচিঙ্গা, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি এবং আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার বলেন, টানা বর্ষণে সবজি ও আউশ ধানের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।

হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় ও চা বাগান এলাকায় ভূমিধস দেখা দিয়েছে। এতে ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের অন্তত ১০টি স্থানে ছোট-বড় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। চণ্ডিছড়া, রামগঙ্গা, সাতছড়ি ও ২০ নম্বর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে সড়ক রক্ষার কাজ চললেও অব্যাহত বৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিষয় : নদী

RTN News

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মাধবপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, তলিয়ে গেছে ফসল-খামার, ঝুঁকিতে সড়ক ও বসতঘর

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মাধবপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, তলিয়ে গেছে ফসল-খামার, ঝুঁকিতে সড়ক ও বসতঘর

গত তিন দিনের টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি, মাছের খামার, খাল, সড়ক এবং বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে খাল উপচে পড়ায় তলিয়ে গেছে সবজি ও আউশ ধানের ক্ষেত, ভেসে গেছে মাছের পুকুর। এছাড়া কয়েকটি বসতঘর নদী ও খালের ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুনারুঘাট-রামগঙ্গা সড়ক এবং ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের সাতছড়ি ও সুরমা চা বাগান এলাকায় একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর আগে টানা ভারী বর্ষণে রামগঙ্গা ও চণ্ডিছড়া মাজার এলাকায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সলের নির্দেশনায় হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করলেও নতুন করে বৃষ্টিতে সেই স্থানগুলো আবারও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বুধবার উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ জানান, ভবানীপুর এলাকায় নতুন খাল খননের পর পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে কয়েকটি বসতঘর ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত খাল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে আন্দিউড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে একাধিক মাছের খামার তলিয়ে গেছে। আন্দিউড়া গ্রামের মাছচাষি মুর্শেদ মিয়া জানান, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে তাঁর চারটি পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। একইভাবে আরও ১০ থেকে ১২ জন মাছচাষিও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক আলী হোসেন জানান, সীমনা ছড়া, হলহলিয়া ছড়া ও তেলিয়াপাড়া ছড়া দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি পানিতে কৃষিজমিতে পলি জমে বরবটি, শসা, লাউ, চালকুমড়া, চিচিঙ্গা, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি এবং আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার বলেন, টানা বর্ষণে সবজি ও আউশ ধানের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।

হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় ও চা বাগান এলাকায় ভূমিধস দেখা দিয়েছে। এতে ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের অন্তত ১০টি স্থানে ছোট-বড় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। চণ্ডিছড়া, রামগঙ্গা, সাতছড়ি ও ২০ নম্বর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে সড়ক রক্ষার কাজ চললেও অব্যাহত বৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মাধবপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, তলিয়ে গেছে ফসল-খামার, ঝুঁকিতে সড়ক ও বসতঘর
0:00 0:00
1.0x