ঢাকা    শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
RTN News

চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত


প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম জলমগ্ন, নিম্নাঞ্চলে কোমরসমান পানি; বন্ধ ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল

চট্টগ্রাম: টানা কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সড়ক, অলিগলি, বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিচতলার বাসিন্দারা। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন অনেক পরিবার।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকতে দেখা যায়। নিচু এলাকার বহু বাসায় পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পরিবার শুকনো খাবারের ওপর নির্ভর করছে। কোথাও কোথাও টয়লেট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বহদ্দারহাট, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, হালিশহর, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, পতেঙ্গা, কুয়াইশ, আকমল আলী সড়ক, হাজিপাড়া, লালদিঘীর পাড়, সিঅ্যান্ডবি মোড়, পলিটেকনিক মোড় এবং গোলপাহাড় কাজিরহাটসহ নগরীর অধিকাংশ এলাকাই জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে।

বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাটে পানি ঢুকে পণ্য নষ্ট হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে অনেক ব্যবসায়ী আসবাবপত্র ও মালামাল উঁচু স্থানে সরিয়ে রেখেছেন।

বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তৌহিদুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার বাসায় পানি না থাকলেও রাতভর বৃষ্টির পর বুধবার সকালে কোমরসমান পানি জমে যায়। প্রয়োজনীয় মালামাল পাশের একটি বাসায় সরিয়ে রাখতে হয়েছে। পানি না কমলে আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিতে হবে।

চকবাজার এলাকার বাসিন্দা আকলিমা জানান, নিচতলার বাসায় হাঁটুসমান পানি জমে রান্নাঘরও ডুবে গেছে। ফলে সকাল থেকে পরিবারের সদস্যরা শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে আমবাগান আবহাওয়া অফিসে ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের সহকারী পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী আরও দুদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার চট্টগ্রামের ষোলোশহর এলাকায় একটি ট্রেন প্রায় ১১ ঘণ্টা আটকে থাকার পর রাত ১১টার দিকে যাত্রা বাতিল ঘোষণা করা হয়। এতে ট্রেনে থাকা প্রায় এক হাজার যাত্রী দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে স্টেশনে আটকে থাকেন। পরে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেনটি কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়নি।

বিষয় : চট্টগ্রাম বন্যার খবর

RTN News

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

টানা ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম জলমগ্ন, নিম্নাঞ্চলে কোমরসমান পানি; বন্ধ ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল

চট্টগ্রাম: টানা কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সড়ক, অলিগলি, বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিচতলার বাসিন্দারা। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন অনেক পরিবার।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকতে দেখা যায়। নিচু এলাকার বহু বাসায় পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পরিবার শুকনো খাবারের ওপর নির্ভর করছে। কোথাও কোথাও টয়লেট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বহদ্দারহাট, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, হালিশহর, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, পতেঙ্গা, কুয়াইশ, আকমল আলী সড়ক, হাজিপাড়া, লালদিঘীর পাড়, সিঅ্যান্ডবি মোড়, পলিটেকনিক মোড় এবং গোলপাহাড় কাজিরহাটসহ নগরীর অধিকাংশ এলাকাই জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে।

বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাটে পানি ঢুকে পণ্য নষ্ট হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে অনেক ব্যবসায়ী আসবাবপত্র ও মালামাল উঁচু স্থানে সরিয়ে রেখেছেন।

বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তৌহিদুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার বাসায় পানি না থাকলেও রাতভর বৃষ্টির পর বুধবার সকালে কোমরসমান পানি জমে যায়। প্রয়োজনীয় মালামাল পাশের একটি বাসায় সরিয়ে রাখতে হয়েছে। পানি না কমলে আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিতে হবে।

চকবাজার এলাকার বাসিন্দা আকলিমা জানান, নিচতলার বাসায় হাঁটুসমান পানি জমে রান্নাঘরও ডুবে গেছে। ফলে সকাল থেকে পরিবারের সদস্যরা শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে আমবাগান আবহাওয়া অফিসে ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের সহকারী পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী আরও দুদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার চট্টগ্রামের ষোলোশহর এলাকায় একটি ট্রেন প্রায় ১১ ঘণ্টা আটকে থাকার পর রাত ১১টার দিকে যাত্রা বাতিল ঘোষণা করা হয়। এতে ট্রেনে থাকা প্রায় এক হাজার যাত্রী দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে স্টেশনে আটকে থাকেন। পরে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেনটি কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়নি।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
0:00 0:00
1.0x