কালিয়াকৈরে পোশাক কারখানার শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ, পানির মান পরীক্ষা
গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি পোশাক কারখানায় শতাধিক শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানার পানি পান করার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকার ড্রেসম্যান লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন শ্রমিক কারখানার পানির ট্যাপ থেকে পানি পান করেন। পরে কাজ করার সময় কয়েকজন নারীশ্রমিক বমি ও অসুস্থতা অনুভব করে সেলাই মেশিনের ওপরই লুটিয়ে পড়েন। সহকর্মীরা তাদের দ্রুত কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
এরপর একে একে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারখানা কর্তৃপক্ষ এক দিনের জন্য ছুটি ঘোষণা করে।
অসুস্থ শ্রমিক বেলাল হোসেন ও রাবেয়া খাতুন বলেন, কারখানার ভেতরের পানি পান করার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের দাবি, কারখানার ভেতরে পচা ধরনের একটি গন্ধও ছিল, যা শ্রমিকদের অসুস্থতার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
তবে কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার প্রভাবেও শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারেন। ড্রেসম্যান লিমিটেডের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, কারখানার পানির নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। শ্রমিকদের চিকিৎসার সব ব্যয় প্রতিষ্ঠান বহন করবে।
কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সফিকুর রহমান বলেন, কারখানাটির ১১০ জন শ্রমিক চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবার পানি পান করার পর তারা অসুস্থ হয়েছেন।
খবর পেয়ে জেলা সিভিল সার্জন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কারখানায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অসুস্থ শ্রমিকদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, শ্রমিকদের অসুস্থ হওয়ার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত করা হবে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।