রৌমারী সীমান্তে শূন্যরেখা থেকে নিখোঁজ সুমি ও তাঁর দুই সন্তান
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে বাংলাদেশ-ভারত শূন্যরেখায় টানা চার দিন ধরে অবস্থান করা পুশইনের চেষ্টার শিকার এক পরিবারের পাঁচ সদস্য হঠাৎ নিখোঁজ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সুমি আক্তার, তাঁর স্বামী বিল্লাল হোসেন এবং দুই কন্যাসন্তানকে শূন্যরেখায় দেখা যাচ্ছে না। তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি সংস্থা।
সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুন ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ শালমারা-মানকাচর এলাকার সীমান্ত দিয়ে সুমি আক্তারের পরিবারসহ মোট নয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন।
বিজিবির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, বুধবার রাত পর্যন্ত সুমি আক্তার, তাঁর পাঁচ মাসের শিশু কন্যা সুমাইয়া, চার বছরের মেয়ে ফাতেমা ও স্বামী বিল্লাল হোসেন শূন্যরেখাতেই ছিলেন। খাদ্য ও পুষ্টির অভাবে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার সরবরাহ করা হয়। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাদের আর দেখা যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, ভোরের দিকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির একটি গাড়ি ও একটি সাদা রঙের গাড়ি দেখা যায়। এরপর থেকেই পরিবারটির আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সোনা মিয়া বলেন, ‘বুধবার রাতে সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মতো আলোচনা হতে দেখেছি। সকালে গিয়ে দেখি সুমি আক্তারদের পরিবারটি সেখানে নেই। তবে বাকি পাঁচজন এখনো শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।’
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী বলেন, নিখোঁজ পরিবারটির বিষয়ে থানার কাছে কোনো তথ্য নেই। তাদের থানায় আনা হয়নি।
জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ‘বুধবার রাতে অসুস্থ হওয়ায় সুমি আক্তারের পরিবারকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তবে পরিবারটি বর্তমানে কোথায় আছে, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’
এদিকে সুমি আক্তারের পরিবার হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নতুন করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারটির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।