ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা জিসান কারাগারে
কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদ্য বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ।
জিসান মিয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতিও। তাঁর বাড়ি দাউদকান্দি উপজেলার বীরবাগ গ্রামে।
আদালতে হাজির করার খবরে এদিন আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমকর্মী ও উৎসুক জনতার ভিড় দেখা যায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে আদালতে নিয়ে আসেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, মামলার অভিযোগ সঠিক নয় বলে তাঁদের দাবি। তাঁরা আদালতের কাছে জামিন ও উন্নত চিকিৎসার আবেদন করেছেন।
দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. বারী বলেন, গ্রেপ্তারের পর জিসান অসুস্থতার কথা জানানোয় তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকের ছাড়পত্র পাওয়ার পর মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এ মামলায় জিসান ছাড়াও সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীব নামে আরও তিনজন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তদন্তের স্বার্থে পরে জিসানকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হতে পারে।
মামলার এজাহার ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে তাঁকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিয়ের জন্য চাপ দিলে গত ১১ জুন জিসান আত্মগোপনে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, গত শুক্রবার রাতে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।