ওমান উপসাগরে মার্কিন বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতের পররাষ্ট্রনীতি, কূটনৈতিক অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত অংশীদারত্বের বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।
আগামী ১৭ জুন ফ্রান্সে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের আগে ঘটে যাওয়া এ ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার পর ভারত সরকার কূটনৈতিকভাবে প্রতিবাদ জানালেও যুক্তরাষ্ট্র হামলাকে বৈধ বলে দাবি করেছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নিহত ভারতীয়দের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাও ঘটেনি।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই জাহাজগুলোর বিদেশি পতাকাবাহী হওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে সমালোচকদের মতে, এতে নিহত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার প্রশ্নটি আড়ালে চলে গেছে।
একই সঙ্গে লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে, ছোট প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিলেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো পরাশক্তির ক্ষেত্রে ভারত সরকারের অবস্থান তুলনামূলক নরম। গলওয়ান সংঘর্ষ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
মার্চেন্ট নেভিতে ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নাবিক সরবরাহকারী দেশ। ফলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের ঘটনার জবাবদিহি আদায়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওমান উপসাগরের এই ঘটনা শুধু তিন নাবিকের মৃত্যুর বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি এবং ভারতের কূটনৈতিক সক্ষমতার প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।