তারেক রহমানের সফরের জন্য বিছানো ভাড়ার ইট তুলে নেওয়ায় বগুড়ায় সমালোচনা
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি-জিয়াবাড়ি সংযোগ সড়কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে অস্থায়ীভাবে বিছানো ভাড়ার ইট পরে তুলে নেওয়ায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ইট সরিয়ে নেওয়ার পর বর্ষাকালে সড়কটি আবারও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগবাড়ি-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়াবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার সংযোগ সড়ক পাকাকরণের জন্য গত অর্থবছরে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
এর মধ্যে গত ২০ এপ্রিল বগুড়া সফরে এসে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকে কেন্দ্র করে দ্রুত সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে এলজিইডির উদ্যোগে কাঁচা রাস্তায় অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ভাটা থেকে ভাড়ায় আনা ইট ব্যবহার করে এ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল।
সফরের প্রায় এক সপ্তাহ পর ঠিকাদার সড়ক থেকে ইটগুলো তুলে নেন। এরপর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাদের দাবি, ইট বসানোর ফলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কিছুটা কমেছিল। কিন্তু ইট সরিয়ে নেওয়ার পর আবারও চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডির বগুড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, মূল প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে বরাদ্দ রয়েছে। তাই অস্থায়ীভাবে ভাড়ায় আনা ইট ব্যবহার করা হয়েছিল এবং পরে তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইট কিনে ব্যবহার করলে ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেত।
ঠিকাদার আতিকুর রহমান জানান, এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী ভাড়ায় আনা ইট সড়কে বিছানো হয়েছিল এবং সফর শেষে তা পুনরায় ভাটায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কাজে পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয় বহন করেছে এলজিইডি।
উপজেলা প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে প্রচার হচ্ছে, বাস্তবতা তেমন নয়। বর্তমানে সড়কের পাশের প্রতিরক্ষামূলক কাজ চলছে। সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে মূল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী অক্টোবরের মধ্যে তা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।