রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগী রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন। অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নিহত রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে উৎসুক জনতার ভিড় দেখা যায়। নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে প্রতিবেশী স্বপ্না খাতুন কৌশলে নিজের বাসায় নিয়ে যান। পরে মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে সোহেল রানার বাসার সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির মধ্যে তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর স্বপ্না খাতুনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সোহেল রানাকে। ওই দিনই নিহত শিশুর বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ঘটনার মাত্র চার দিনের মাথায় ২৪ মে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। মামলায় ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। ১ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়, ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় এবং ৪ জুন যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন। এর মধ্য দিয়ে আলোচিত এ মামলার বিচার মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হলো।