ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে। শুক্রবার সকাল থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে যানজট ও ধীরগতির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এবং সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন সাসেক-২ প্রকল্পের অধীনে গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় চার লেন সড়ক প্রশস্তকরণ ও ওভারপাস নির্মাণকাজ চলমান থাকায় যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় যানবাহনের বিশৃঙ্খল চলাচল এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামাও যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রংপুর থেকে সিরাজগঞ্জগামী জেনিন পরিবহনের সুপারভাইজার মেজবাহুল আলম হিরা জানান, বিকেলের দিকে যানবাহনের চাপ বাড়লে গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় প্রায় ২০ মিনিট আটকে থাকতে হয়। মাত্র ৩০০ মিটার পথ অতিক্রম করতেই দীর্ঘ সময় লেগে যায়। বগুড়ার মোকামতলা এলাকাতেও থেমে থেমে যান চলাচল করেছে।
ঈদ-পরবর্তী সময়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করায় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। অনেক বাসকে নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে যাত্রী তুলতে দেখা গেছে। আসন সংকটের কারণে অনেক যাত্রীকে পণ্যবাহী ট্রাকেও যাত্রা করতে হয়েছে।
এদিকে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়ে যাওয়ায় শুক্রবার ভোর থেকে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ সড়কের ঢাকামুখী লেনে তীব্র যানজট দেখা দেয়। সেতুর পশ্চিম গোলচত্বর থেকে কামারখন্দ উপজেলার কোনাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
ঘোড়াঘাট থেকে ঢাকাগামী যাত্রী মিজনু বেগম জানান, নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা পর বাস ছেড়েছে। এরপর গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তপন কুমার সূত্রধর জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাময়িকভাবে উত্তরবঙ্গগামী একটি লেন বন্ধ রেখে উভয় লেন ব্যবহার করে ঢাকামুখী যানবাহন পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটি শেষে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ একযোগে কর্মস্থলে ফিরছেন। এর মধ্যেই সেতুর ওপর একটি বাস, ট্রাক ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষ এবং কয়েকটি দূরপাল্লার বাস বিকল হয়ে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
হাইওয়ে পুলিশের বগুড়া ও রংপুর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আবুতোরাব মো. শামসুর রহমান বলেন, চলমান অবকাঠামো নির্মাণকাজের কারণে সাময়িক ভোগান্তি তৈরি হলেও যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।