হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো শেডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। কমিটিকে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো শেড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমেই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিরূপণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, বারবার কেন শর্ট সার্কিটের ঘটনা ঘটছে, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এর আগের অগ্নিকাণ্ডের তদন্তেও একই কারণ উঠে এসেছিল। ফলে কোথাও না কোথাও গাফিলতি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, তদন্তে যদি কারও অবহেলা বা দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
গত বছরের ১৮ অক্টোবর একই কার্গো শেডে অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের আওতায় নতুন কার্গো সুবিধা নির্মাণের পরিকল্পনা থাকায় এখনো স্থায়ী নতুন শেড নির্মাণ করা হয়নি।
তিনি জানান, জাপানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় থার্ড টার্মিনালের পেছনে আমদানি ও রপ্তানির জন্য দুটি আধুনিক কার্গো গোডাউন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি গোডাউনে প্রায় ৮ লাখ টন পণ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা থাকবে।
এ ছাড়া সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।