ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি আর এক বছরও দায়িত্বে থাকতে পারবেন না বলে দাবি করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, রাজনৈতিক অবস্থান টিকিয়ে রাখতে মোদি সরকার জরুরি অবস্থার মতো কঠোর পদক্ষেপও নিতে পারে।
বুধবার নয়াদিল্লিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব মন্তব্য করেন রাহুল গান্ধী।
তিনি বলেন, যে প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর ভর করে বর্তমান সরকার পরিচালিত হচ্ছিল, সেটি ভেতর থেকেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়ছে এবং সেখানকার অনেকেই বিরোধী শিবিরের সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগি করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
রাহুলের ভাষায়, “দেশের সিস্টেমের ভেতরে একটি সংঘবদ্ধ বিক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। যে সিস্টেম একসময় নরেন্দ্র মোদির নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেই সিস্টেমই এখন আমাকে তার সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছে। গোটা ব্যবস্থার ভেতর থেকে একটি বড় ঝাঁকুনি আসতে চলেছে।”
কংগ্রেস নেতা আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য নিয়মিতভাবে তার কাছে পৌঁছায়। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি মনে করেন, মোদি আর এক বছরও প্রধানমন্ত্রী পদে টিকতে পারবেন না।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাহুল গান্ধী। তার মতে, ভারতের সামনে একটি বড় অর্থনৈতিক সংকট এগিয়ে আসছে। কিন্তু সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা কাঠামো বা ‘শক অ্যাবজরবার’ ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার দুর্বল করে ফেলেছে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব ভারতের ওপর আরও বেশি পড়তে পারে।
এছাড়া নির্বাচন কমিশন, গোয়েন্দা সংস্থা এবং তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও তিনি নিয়মিত তথ্য পান বলে দাবি করেন কংগ্রেস নেতা।
রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য নিয়ে এখনো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা বিজেপির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।