ঢাকা    রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
RTN News

শিশুমৃত্যুর পর মাজার দিঘির কুমির স্থানান্তর


প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

শিশুমৃত্যুর পর মাজার দিঘির কুমির স্থানান্তর
ছবি: সমকাল

শিরোনাম:
খান জাহান আলীর মাজার দিঘি থেকে একমাত্র কুমির সরানো হলো, খুলনায় পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর

বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের হজরত খান জাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দিঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরটি জননিরাপত্তার স্বার্থে স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে বন বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা কুমিরটি ধরার অভিযান শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দিঘির পূর্বপাড়ে কুমিরটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে সেটিকে নিয়ন্ত্রণে এনে দিঘি থেকে তোলা হয়।

এরপর বিশেষ ব্যবস্থায় কুমিরটিকে গাড়িযোগে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

গত সোমবার রাতে কুমিরটির আক্রমণে ফাতেমা আক্তার নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। নিহত শিশুটি মাজারে অবস্থানরত এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। এ ঘটনার পর জননিরাপত্তা বিবেচনায় মঙ্গলবার রাতে জরুরি সভায় কুমিরটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন।

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন জানান, আপাতত কুমিরটিকে খুলনার পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হবে। পরবর্তীতে প্রাণীটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল দিঘির ঘাট থেকে একটি কুকুরকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কুমিরটি আলোচনায় আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ইতিহাস অনুযায়ী, হজরত খান জাহান আলী (রহ.) দিঘিতে এক জোড়া কুমির অবমুক্ত করেছিলেন। তাদের নাম ছিল ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’। পরবর্তীতে তাদের বংশধরদেরও একই নামে ডাকা হতো। তবে সর্বশেষ বংশধর কুমিরটির মৃত্যু হয় ২০১৫ সালে। পরে ২০০৫ সালে ভারত থেকে আনা কয়েকটি কুমির দিঘিতে ছাড়া হলেও ধীরে ধীরে সেগুলো মারা যায়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি কুমিরের মৃত্যুর পর দিঘিতে কেবল এই একটিই অবশিষ্ট ছিল।

বিষয় : বাগেরহাট কুমির মাজার

RTN News

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬


শিশুমৃত্যুর পর মাজার দিঘির কুমির স্থানান্তর

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image

শিরোনাম:
খান জাহান আলীর মাজার দিঘি থেকে একমাত্র কুমির সরানো হলো, খুলনায় পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর

বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের হজরত খান জাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দিঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরটি জননিরাপত্তার স্বার্থে স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে বন বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা কুমিরটি ধরার অভিযান শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দিঘির পূর্বপাড়ে কুমিরটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে সেটিকে নিয়ন্ত্রণে এনে দিঘি থেকে তোলা হয়।

এরপর বিশেষ ব্যবস্থায় কুমিরটিকে গাড়িযোগে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

গত সোমবার রাতে কুমিরটির আক্রমণে ফাতেমা আক্তার নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। নিহত শিশুটি মাজারে অবস্থানরত এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। এ ঘটনার পর জননিরাপত্তা বিবেচনায় মঙ্গলবার রাতে জরুরি সভায় কুমিরটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন।

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন জানান, আপাতত কুমিরটিকে খুলনার পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হবে। পরবর্তীতে প্রাণীটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল দিঘির ঘাট থেকে একটি কুকুরকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কুমিরটি আলোচনায় আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ইতিহাস অনুযায়ী, হজরত খান জাহান আলী (রহ.) দিঘিতে এক জোড়া কুমির অবমুক্ত করেছিলেন। তাদের নাম ছিল ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’। পরবর্তীতে তাদের বংশধরদেরও একই নামে ডাকা হতো। তবে সর্বশেষ বংশধর কুমিরটির মৃত্যু হয় ২০১৫ সালে। পরে ২০০৫ সালে ভারত থেকে আনা কয়েকটি কুমির দিঘিতে ছাড়া হলেও ধীরে ধীরে সেগুলো মারা যায়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি কুমিরের মৃত্যুর পর দিঘিতে কেবল এই একটিই অবশিষ্ট ছিল।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
শিশুমৃত্যুর পর মাজার দিঘির কুমির স্থানান্তর
0:00 0:00
1.0x