ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) শুরু থেকেই সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণ করেছিল এবং ইরানের অভ্যন্তরে ডজনখানেক বিমান হামলা চালিয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
তৃতীয় প্রধান অংশীদার হিসেবে যুদ্ধে আমিরাত
শুক্রবার (৩০ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবুধাবি কেবল পরোক্ষ সহায়তাই করেনি — বরং মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর পাশাপাশি কার্যত তৃতীয় প্রধান সামরিক অংশীদার হিসেবে সক্রিয় ছিল। এমনকি গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও আমিরাতের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন ও ইসরাইলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই হামলাগুলো সমন্বয় করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
যেসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছিল
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও কৌশলগত অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই যৌথ হামলা পরিচালিত হয়। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল —
হরমুজ প্রণালির কিশমি ও আবু মুসা দ্বীপ
বন্দর আব্বাস বন্দর এলাকা
লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগার
আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স
বিশেষত আসালুয়েহ কমপ্লেক্সে ইসরাইলের সাথে সমন্বিত হামলার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন ইসরাইলকে ইরানের জ্বালানি খাতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানাতে বাধ্য হয়।
প্রতিশ্রুতি ভেঙে যুদ্ধে নামল আমিরাত
যুদ্ধের আগে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিল যে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। তবে এই প্রতিবেদন স্পষ্ট করছে যে যুদ্ধ শুরু হতেই আবুধাবি সেই অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ সরে আসে।
জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের শহর, বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালায়। পুরো সংঘাতে আমিরাতকে ইরানের প্রায় ২,৮০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাত সহ্য করতে হয়েছে।
সৌদি-আমিরাত দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
এই যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ ফাটলও স্পষ্ট করে তুলেছে। গত এপ্রিলের শুরুতে সৌদি আরব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে গোপনে জানায় যে আমিরাতের হামলার কারণে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি খাত ইরানের পাল্টা আঘাতের মুখে পড়তে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে মারাত্মক হুমকিতে ফেলবে।
রিয়াদ সামরিক অভিযান বন্ধ করে কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফেরার জন্য আবুধাবির ওপর চাপ দিতে ওয়াশিংটনকে অনুরোধও জানায়। অন্যদিকে সমন্বিত অভিযানে যোগ না দেওয়ায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ওপর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ।
আমিরাতের অর্থনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয়
ইরানের পাল্টা আঘাতে আমিরাতের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে —
বিমান চলাচল ব্যাহত, ১৮,৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল
পর্যটন রাজস্বে ধস ও আবাসন খাতে মন্দা
এপ্রিলের শেষ নাগাদ দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজার থেকে হারিয়ে গেছে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার
অনেক কোম্পানি বাধ্যতামূলক ছুটি ও কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে
সূত্র: মিডল ইস্ট আই / ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল