ঢাকা    বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
RTN News

ক্রেতা না পেয়ে ১০৫টি কোরবানির চামড়া তিতাস নদীতে ফেললেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী


প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ক্রেতা না পেয়ে ১০৫টি কোরবানির চামড়া তিতাস নদীতে ফেললেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী
বিক্রি করতে না পেরে পশুরে ১০৫টি চামড়া তিতাস নদীতে ফেলে দেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হেলাল মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহা উপলক্ষে লাভের আশায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হেলাল মিয়া। কিন্তু ঈদের পর দুই দিন চেষ্টা করেও কোনো ক্রেতা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত শতাধিক চামড়া তিতাস নদীতে ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। এতে প্রায় ২৫ হাজার টাকার লোকসানে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন এই মৌসুমি ব্যবসায়ী।

রোববার সকালে তিতাস নদীর তীরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার আমোদাবাদ এলাকায় বেশ কিছু কোরবানির পশুর চামড়া ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চামড়াগুলো ফেলেছেন বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল বাজারের ব্যবসায়ী হেলাল মিয়া।

হেলাল মিয়া জানান, এক পরিচিত ব্যবসায়ীর পরামর্শ ও চামড়া কিনে নেওয়ার আশ্বাসে তিনি এবার মাঠে নামেন। প্রতিটি চামড়া ২০০ টাকা দরে কিনে মোট ১২৫টি চামড়া সংগ্রহ করেন। তবে সংগ্রহ শেষে ওই ব্যবসায়ী চামড়াগুলো কিনতে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি বলেন, “চামড়াগুলো বিক্রির জন্য আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কেউ নিতে রাজি হয়নি। দুই দিন ধরে সংরক্ষণ করে রাখার পরও কোনো উপায় না দেখে ১০৫টি চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছি। বাকি ২০টি চামড়ায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে রেখেছি।”

লোকসানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রায় ২৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে আখাউড়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সিঙ্গারবিল বাজার কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সাত্তার মিয়া বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সাধারণত এসব চামড়া বিক্রির অর্থ দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তিনি দেশের চামড়া শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান।

বিষয় : জেলার খবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া চট্টগ্রাম বিভাগ পশুর চামড়া আখাউড়া ব্যবসায়ী

RTN News

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬


ক্রেতা না পেয়ে ১০৫টি কোরবানির চামড়া তিতাস নদীতে ফেললেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬

featured Image

ঈদুল আজহা উপলক্ষে লাভের আশায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হেলাল মিয়া। কিন্তু ঈদের পর দুই দিন চেষ্টা করেও কোনো ক্রেতা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত শতাধিক চামড়া তিতাস নদীতে ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। এতে প্রায় ২৫ হাজার টাকার লোকসানে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন এই মৌসুমি ব্যবসায়ী।

রোববার সকালে তিতাস নদীর তীরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার আমোদাবাদ এলাকায় বেশ কিছু কোরবানির পশুর চামড়া ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চামড়াগুলো ফেলেছেন বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল বাজারের ব্যবসায়ী হেলাল মিয়া।

হেলাল মিয়া জানান, এক পরিচিত ব্যবসায়ীর পরামর্শ ও চামড়া কিনে নেওয়ার আশ্বাসে তিনি এবার মাঠে নামেন। প্রতিটি চামড়া ২০০ টাকা দরে কিনে মোট ১২৫টি চামড়া সংগ্রহ করেন। তবে সংগ্রহ শেষে ওই ব্যবসায়ী চামড়াগুলো কিনতে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি বলেন, “চামড়াগুলো বিক্রির জন্য আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কেউ নিতে রাজি হয়নি। দুই দিন ধরে সংরক্ষণ করে রাখার পরও কোনো উপায় না দেখে ১০৫টি চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছি। বাকি ২০টি চামড়ায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে রেখেছি।”

লোকসানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রায় ২৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে আখাউড়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সিঙ্গারবিল বাজার কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সাত্তার মিয়া বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সাধারণত এসব চামড়া বিক্রির অর্থ দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তিনি দেশের চামড়া শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
ক্রেতা না পেয়ে ১০৫টি কোরবানির চামড়া তিতাস নদীতে ফেললেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী
0:00 0:00
1.0x