ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
RTN News

ফাঁকা মাঠ ভরাতে এআইয়ের আশ্রয় নিয়েছে কংগ্রেস, অভিযোগ বিজেপির


প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ফাঁকা মাঠ ভরাতে এআইয়ের আশ্রয় নিয়েছে কংগ্রেস, অভিযোগ বিজেপির
ছবি: সংগৃহীত

জনসমাগম দেখাতে এআইয়ের ছবি ব্যবহারের অভিযোগ, কংগ্রেসকে রিজিজুর কটাক্ষ

ভারতের বিরোধী জোটের সমাবেশে বিপুল জনসমাগম দেখাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ব্যবহার করেছে কংগ্রেস— এমন অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। এ নিয়ে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি বেশি দেখানোর জন্য দলটিকে শেষ পর্যন্ত কৃত্রিম ছবি ব্যবহার করতে হয়েছে। তবে সেই ছবিও যথাযথভাবে তৈরি করতে পারেনি তারা।

রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের সমাবেশ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন রিজিজু। পোস্টে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য বংশী গাড্ডাম ও দলের অন্য নেতাদের প্রকাশ করা জনসমাগমের একটি ছবি যুক্ত করেন তিনি।

পোস্টে রিজিজু লেখেন, রামলীলা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ ছিল— এমনটা দেখাতে কংগ্রেসের ভুয়া বয়ান তৈরির দল এআই দিয়ে ছবি বানিয়েছে। কিন্তু সেই কাজও ঠিকভাবে করতে পারেনি তারা।

কংগ্রেসের সাবেক সংসদ সদস্য ও কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য জগদীশ ঠাকুরও একই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। পরে এক্স ব্যবহারকারীদের অনেকে ছবিটিকে এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। ছবিতে সমাবেশের মঞ্চে রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীকে দেখা যায়। তবে ছবির মঞ্চের সঙ্গে সমাবেশস্থলের প্রকৃত মঞ্চের মিল নেই বলে অভিযোগ ওঠে।

রোববারের সমাবেশকে শুরু থেকেই ব্যর্থ বলে দাবি করে আসছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির নেতারা সমাবেশস্থলের ফাঁকা চেয়ার দেখিয়ে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, রামলীলা ময়দানের অন্তত ৪০ শতাংশ জায়গা ফাঁকা ছিল।

সমাবেশের আগে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ১০ লাখ মানুষ অংশ নেবেন।

রোববার সন্ধ্যায় বিজেপির সংসদ সদস্য ও মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, কংগ্রেস ১০ লাখ মানুষের সমাগমের কথা বললেও সমাবেশস্থলের প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গা ফাঁকা ছিল।

রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি বেশি দেখাতে কৌশলে ছবি তোলা হয়েছে। তবে এ ধরনের কৌশল কাউকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে পারবে না।

বিজেপির অভিযোগের জবাবে কংগ্রেস সমাবেশস্থলের ড্রোনে ধারণ করা ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করে। দলটির দাবি, কর্মসূচিতে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছেন।

রামলীলা ময়দানের সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে অবৈধ বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকার কারণে নির্বাচনে ভোট চুরি হয়েছে।

রাহুল গান্ধী বলেন, ‘এই ভোট চুরি কোনো সাধারণ চুরি নয়। এটি ভারতের প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি। একে রাষ্ট্রদ্রোহ বলা হয়।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জ্ঞানেশ কুমার দায়িত্বে না থাকলে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না। নির্বাচনী অনিয়মে ভূমিকার জন্য জ্ঞানেশ কুমারকে কারাগারে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাহুলের বক্তব্যের জবাবে সম্বিত পাত্র বলেন, রামলীলা ময়দানে দাঁড়িয়ে নির্বাচন অবৈধ বলে অভিযোগ করলেই তা প্রমাণিত হয় না। নির্বাচন নিয়ে আপত্তি থাকলে যথাসময়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পাত্র বলেন, নির্বাচনের পরপরই এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ জানাতে হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচন অবৈধ দাবি করে করা আবেদন দেখানোর আহ্বানও জানান তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ ছিল রোববারের এই সমাবেশ। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠার পর থেকে এ আন্দোলন চালিয়ে আসছে বিরোধীরা।

বিষয় : বিজেপি ভারতীয় ন্যাশনাল কংগ্রেস

RTN News

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


ফাঁকা মাঠ ভরাতে এআইয়ের আশ্রয় নিয়েছে কংগ্রেস, অভিযোগ বিজেপির

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

জনসমাগম দেখাতে এআইয়ের ছবি ব্যবহারের অভিযোগ, কংগ্রেসকে রিজিজুর কটাক্ষ

ভারতের বিরোধী জোটের সমাবেশে বিপুল জনসমাগম দেখাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ব্যবহার করেছে কংগ্রেস— এমন অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। এ নিয়ে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি বেশি দেখানোর জন্য দলটিকে শেষ পর্যন্ত কৃত্রিম ছবি ব্যবহার করতে হয়েছে। তবে সেই ছবিও যথাযথভাবে তৈরি করতে পারেনি তারা।

রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের সমাবেশ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন রিজিজু। পোস্টে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য বংশী গাড্ডাম ও দলের অন্য নেতাদের প্রকাশ করা জনসমাগমের একটি ছবি যুক্ত করেন তিনি।

পোস্টে রিজিজু লেখেন, রামলীলা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ ছিল— এমনটা দেখাতে কংগ্রেসের ভুয়া বয়ান তৈরির দল এআই দিয়ে ছবি বানিয়েছে। কিন্তু সেই কাজও ঠিকভাবে করতে পারেনি তারা।

কংগ্রেসের সাবেক সংসদ সদস্য ও কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য জগদীশ ঠাকুরও একই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। পরে এক্স ব্যবহারকারীদের অনেকে ছবিটিকে এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। ছবিতে সমাবেশের মঞ্চে রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীকে দেখা যায়। তবে ছবির মঞ্চের সঙ্গে সমাবেশস্থলের প্রকৃত মঞ্চের মিল নেই বলে অভিযোগ ওঠে।

রোববারের সমাবেশকে শুরু থেকেই ব্যর্থ বলে দাবি করে আসছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির নেতারা সমাবেশস্থলের ফাঁকা চেয়ার দেখিয়ে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, রামলীলা ময়দানের অন্তত ৪০ শতাংশ জায়গা ফাঁকা ছিল।

সমাবেশের আগে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ১০ লাখ মানুষ অংশ নেবেন।

রোববার সন্ধ্যায় বিজেপির সংসদ সদস্য ও মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, কংগ্রেস ১০ লাখ মানুষের সমাগমের কথা বললেও সমাবেশস্থলের প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গা ফাঁকা ছিল।

রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি বেশি দেখাতে কৌশলে ছবি তোলা হয়েছে। তবে এ ধরনের কৌশল কাউকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে পারবে না।

বিজেপির অভিযোগের জবাবে কংগ্রেস সমাবেশস্থলের ড্রোনে ধারণ করা ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করে। দলটির দাবি, কর্মসূচিতে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছেন।

রামলীলা ময়দানের সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে অবৈধ বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকার কারণে নির্বাচনে ভোট চুরি হয়েছে।

রাহুল গান্ধী বলেন, ‘এই ভোট চুরি কোনো সাধারণ চুরি নয়। এটি ভারতের প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি। একে রাষ্ট্রদ্রোহ বলা হয়।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জ্ঞানেশ কুমার দায়িত্বে না থাকলে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না। নির্বাচনী অনিয়মে ভূমিকার জন্য জ্ঞানেশ কুমারকে কারাগারে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাহুলের বক্তব্যের জবাবে সম্বিত পাত্র বলেন, রামলীলা ময়দানে দাঁড়িয়ে নির্বাচন অবৈধ বলে অভিযোগ করলেই তা প্রমাণিত হয় না। নির্বাচন নিয়ে আপত্তি থাকলে যথাসময়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পাত্র বলেন, নির্বাচনের পরপরই এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ জানাতে হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচন অবৈধ দাবি করে করা আবেদন দেখানোর আহ্বানও জানান তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ ছিল রোববারের এই সমাবেশ। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠার পর থেকে এ আন্দোলন চালিয়ে আসছে বিরোধীরা।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
ফাঁকা মাঠ ভরাতে এআইয়ের আশ্রয় নিয়েছে কংগ্রেস, অভিযোগ বিজেপির
0:00 0:00
1.0x